Published : 21 Feb 2026, 01:08 PM
ভাষা শহীদ দিবস উপলক্ষে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণের পর জামায়াতে ইসলামীর আমীর শফিকুর রহমান জানিয়েছেন, এটি একটি রাষ্ট্রীয় প্রথা এবং তিনি সেই অংশ হিসেবে এখানে এসেছেন। শনিবার প্রথম প্রহরে বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে ঢাকায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান তিনি। জামায়াতে ইসলামী এর আগে কখনো শহীদ মিনারে ফুল দেয়নি, তাই এই ঘটনা সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। কেউ কেউ ফেসবুকে লেখেন, দলটির নেতারা আগে এটিকে ‘ইসলামের পরিপন্থী’ মনে করতেন। শহীদ মিনারে ফুল দেওয়ার পর সাংবাদিকরা জামায়াতের আমীর শফিকুর রহমানকে এ বিষয়ে প্রশ্ন করেন। তিনি বলেন, “এটি একটি রাষ্ট্রীয় আচার, এবং আমার দায়িত্ব। বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে আমার সঙ্গীদের নিয়ে এখানে আসাটা জরুরি ছিল।
” উল্লেখ্য, সদ্য সমাপ্ত দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে জামায়াত ৬৮টি আসনে জয়লাভ করেছে এবং তারা প্রধান বিরোধী দলের আসনে বসতে যাচ্ছে। তাদের নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় জোটের মোট আসন সংখ্যা ৭৭। শফিকুর রহমান ইতিমধ্যেই বিরোধীদলীয় নেতা নির্বাচিত হয়েছেন। একুশের প্রথম প্রহরে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রথমে শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে ভাষাশহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। এর কিছুক্ষণ পর বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যদের নিয়ে শহীদ বেদিতে ফুল দেন শফিকুর রহমান। বিরোধীদলীয় নেতার সাথে ছিলেন জামায়াতের নায়েবে আমীর এ টি এম আজহারুল ইসলাম ও মুজিবুর রহমান, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, সদস্যসচিব আখতার হোসেন, এবং এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। ফুল দেওয়ার পর শহীদ মিনারে দাঁড়িয়ে তাঁরা ভাষাশহীদদের জন্য দোয়া ও মোনাজাত করেন।
শহীদ মিনার ছাড়ার সময় সাংবাদিকরা জামায়াত আমীরের কাছে জানতে চান, শহীদ মিনারে আসাটা হঠাৎ কেন? তিনি বলেন, “আমরা ১৯৪৭ সালের শহীদ, বায়ান্নর ভাষা শহীদ, একাত্তরের মুক্তি যোদ্ধাদের এবং নব্বইয়ের গণ-অভ্যুত্থানে জীবন উৎসর্গ করা শহীদদের শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করি। বিশেষ করে যারা জুলাই যোদ্ধা হিসেবে দেশের অধিকারের জন্য লড়াই করেছেন, তাদের স্মরণ করি। আমরা ওসমান হাদিকেও স্মরণ করি।” ভাষা শহীদ দিবসে জামায়াতের পক্ষে আগে কখনো শহীদ মিনারে ফুল দেওয়ার কর্মসূচি ছিল না। যদিও দলীয়ভাবে কোনো কর্মসূচি ছিল না, জামায়াতের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে শফিকুর রহমান রাষ্ট্রীয় আচার-অনুষ্ঠানের অংশ হিসেবে শহীদ মিনারে যাবেন। এক সাংবাদিক জানতে চাইলে, জামায়াত এখনো ফুল দেওয়াকে নাজায়েজ মনে করে কিনা, শফিকুর রহমান পাল্টা প্রশ্ন করেন, “আজকে আপনি এই প্রশ্ন কেন করছেন?” এরপর জামায়াত আমীর আর কোনো প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে শহীদ মিনার ত্যাগ করেন।।
এনসিপির মনিরা শারমিনের মনোনয়নপত্র বাতিল: হাইকোর্টের প্রশ্ন, কেন অবৈধ নয়?