Published : 01 Apr 2026, 11:09 AM
বলিউডের পরিচিত অভিনেত্রী ভূমি পেড়নেকর বিশ্বাস করেন, একজন শিল্পীর সবচেয়ে বড় শক্তি হলো নতুন কিছু করার সাহস। তিনি চান, নিজের কাজের মাধ্যমে সেই সাহস তিনি প্রমাণ করতে। সম্প্রতি ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের সাথে আলাপকালে ভূমি তাঁর নতুন ওয়েব সিরিজ ‘দলদল’, অভিনয় জীবনের পরিবর্তন এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন। অভিনয় জীবনের মোড়ফেরা ভূমি পেড়নেকর ক্যারিয়ারের শুরুটা হয়েছিল ছোট শহরের সাধারণ মেয়ের চরিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে। ‘দম লাগা কে হ্যাঁয়সা’ ছবিতে সন্ধ্যা ভার্মা চরিত্রে অভিনয় করে তিনি প্রথম পরিচিতি পান। এরপর ‘বালা’, ‘আফওয়া’, ‘ভক্ষক’, ‘বাধাই দো’র মতো ছবিতেও তিনি মধ্যবিত্ত পরিবারের মেয়ের ভূমিকায় অভিনয় করেছেন। তবে নতুন ওয়েব সিরিজ ‘দলদল’ তাঁর ক্যারিয়ারে নিয়ে এসেছে এক নতুন মাত্রা। এখানে তিনি মুম্বাই ক্রাইম ব্রাঞ্চের সবচেয়ে কমবয়সী প্রধান কর্মকর্তার চরিত্রে অভিনয় করেছেন—যে চরিত্রটি ক্ষমতা, চাপ এবং নৈতিক দ্বন্দ্বে জর্জরিত। ভূমি বললেন, ‘আমার কাছে মনে হয়েছে, এটি আমার অভিনয় জীবনের একটি স্বাভাবিক progression। আমি সবসময় এমন গল্পের দিকে আকৃষ্ট হই, যেখানে সমাজ বা মানুষের আচরণ নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়। তবে ‘দলদল’ মানুষের ভেতরের অন্ধকার দিকটা যেভাবে দেখিয়েছে, তেমন কাজ আমি আগে করিনি।
’ রীতার জটিলতা ভূমি আরও বলেন, ‘রীতা এমন একজন মানুষ, যে পুরনো আঘাত এবং নৈতিক দ্বন্দ্ব নিয়ে নীরবতায় ডুবে থাকে। এই সিরিজের জগৎ অন্ধকার, অস্বস্তিকর এবং মানসিকভাবে খুবই চ্যালেঞ্জিং। এই অস্বস্তিই আমাকে এই প্রোজেক্টের দিকে টেনেছে।’ তাঁর ভাষায়, ‘আমি এখন এমন চরিত্রগুলো করতে চাই, যারা সব কথা বলে না—বরং দর্শকদের ওপর বিশ্বাস রাখে। যে চরিত্র আমাকে আমার comfort zone থেকে বের করে আনে এবং নতুন করে ভাবতে শেখায়। “দলদল” ঠিক সেটাই করেছে।’ পরিবর্তন নয়, বিবর্তন ভূমি জানান, এখন তিনি কাজ নির্বাচনের ক্ষেত্রে আগের চেয়ে অনেক বেশি সচেতন। ‘প্রথমে গল্পটি আমাকে emotionally connect করতে হয়, তারপর আমি সিদ্ধান্ত নিই। এখন “সঠিক প্রোজেক্ট” বলতে আমি বুঝি এমন কিছু, যা আমাকে চ্যালেঞ্জ করবে, কিছুটা ভয় দেখাবে।’ তিনি বলেন, ‘আমি আর একঘেয়ে বা আরামদায়ক চরিত্রে অভিনয় করতে আগ্রহী নই; বরং এমন পরিচালক ও লেখকদের সঙ্গে কাজ করতে চাই, যারা জটিলতা ও দ্ব্যর্থবোধকতাকে গুরুত্ব দেন।’ প্রায় এক দশকের ক্যারিয়ারের দিকে তাকিয়ে ভূমি ‘পরিবর্তন’ নয়, ‘বিবর্তন’ শব্দটিকে বেশি প্রাধান্য দেন।
তাঁর ভাষায়, ‘শুরুতে আমি ছোট শহরের সাধারণ মেয়ের চরিত্রে পরিচিতি পেলেও, এখন আমি এমন নারীদের গল্প বলতে চাই, যারা সমাজের নিয়ম-নীতির মধ্যে নিজেদের জায়গা করে নিতে প্রতিনিয়ত লড়াই করছে।’ গল্প বলার আগ্রহ ভূমি যোগ করেন, ‘চরিত্রের পরিধি হয়তো বদলেছে, কিন্তু মানুষের গল্প জানার আগ্রহ একই আছে। আমার চরিত্রগুলো প্রায়শই এমন নারীদের নিয়ে, যারা সমাজ, শ্রেণি, লিঙ্গ এবং নৈতিকতার বেড়াজালে নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার জন্য সংগ্রাম করে।’ নতুনত্বের আকাঙ্ক্ষা ভূমি মনে করেন, ‘অর্থবহ সিনেমা’ও অনেক সময় একটি নির্দিষ্ট গণ্ডি তৈরি করতে পারে। তিনি বলেন, ‘ইন্ডাস্ট্রি এখন এমন একটি জায়গায় দাঁড়িয়েছে, যেখানে বড় বাজেটের চমকপ্রদ সিনেমা এবং গভীর, সংবেদনশীল গল্প—দুটোই সমানভাবে চলছে। আমি এই দুই ধারার সঙ্গেই কাজ করতে চাই।’ তবে ভূমি সবসময় একটি বিষয় ধরে রাখতে চান, ‘ঝুঁকি নেওয়ার ক্ষমতা’। তাঁর কথায়, ‘জটিল এবং সত্যনিষ্ঠ গল্প বেছে নেওয়ার সাহসই আমার কাছে সবচেয়ে মূল্যবান। একজন অভিনেতা হিসেবে আমি সবসময় এমন পরিচালকদের সঙ্গে কাজ করতে চাই, যারা সত্যিই কিছু বলতে চান।’।
শেহনাজের জীবন কাহিনি ঘিরে তৈরি হতে পারে এক অসাধারণ চলচ্চিত্র