Published : 15 Jul 2026, 07:15 AM
১৪ বছরের কোচিংয়ের সময়কালে ফ্রান্সের কোচ হিসেবে জার্মানির কাছে বারবার সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছে। অভিযোগ ছিল, দিদিয়ের দল অতিরিক্ত রক্ষণাত্মক হয়ে ম্যাচ নিয়ন্ত্রণে বেশি মনোযোগী হয় এবং দলের সেরা আক্রমণভাগের খেলোয়াড়দের অবাধ স্বাধীনতা দেয় না। তবে জাতীয় দলের কোচ হিসেবে নিজের শেষ টুর্নামেন্টে কৌশলগত দিক থেকে দেশমের অবস্থান কিছুটা পরিবর্তন করেছিলেন। সংবাদমাধ্যমের সামনে তাঁর স্বভাবসুলভ গম্ভীরতা বজায় থাকলেও। এই বিশ্বকাপে ফ্রান্স বেশ কিছু সপ্তাহ ধরে আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলেছে। কিন্তু প্রথম সত্যিকারের শক্তিশালী প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হতেই তারা ছন্দ হারিয়ে ফেলে। মনে হয়েছে এই ম্যাচে ফ্রান্সের আরও একটু 'জার্মানি ধাঁচের' ফুটবলের প্রয়োজন ছিল। বরং এই টুর্নামেন্টে এমন এক ফ্রান্সের ঝলক দেখা গেছে, যাদের গত এক দশক ধরে দেখা যেত। সৃজনশীলতা, ছন্দ এবং নান্দনিকতায় ভরপুর এক দল। এই ফুটবল অনেকের মনে আশির দশকের শুরুর ও মাঝামাঝি সময়ের দুর্দান্ত ফরাসি দলের স্মৃতি ফিরিয়ে এনেছে। কেউ কেউ এই দলকে ২০০২ সালের পরাক্রমশালী ব্রাজিল দলের সঙ্গেও তুলনা করেছেন, তবে স্পেন সেই তুলনাকে অপ্রাসঙ্গিক করে দিয়েছে। ডালাসের বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ফ্রান্সকে পাত্তাই দেয়নি দে লা ফুয়েন্তের দল।
অপ্রয়োজনীয় তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ বাদ দিলে সেমিফাইনালে এই পরাজয় ফরাসি ফুটবলের জার্মানি-অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটিয়ে দিল। যদিও ফাইনালে যেতে না পারলেও দেশমের অর্জন কম নয়—একটি বিশ্বকাপ জয়, আরেকটি বিশ্বকাপের ফাইনাল এবং একটি সেমিফাইনালে দলের জন্য তুলেছেন। ইউরোতেও ফ্রান্স একাধিকবার ফাইনাল ও সেমিফাইনালে পৌঁছেছে। ১৪ বছরের মধ্যে পাঁচটি বড় টুর্নামেন্টের মধ্যে চারটিতেই শেষ চারে ওঠা নিঃসন্দেহে একটি বড় সাফল্য। তবে মুদ্রার অন্য দিকও রয়েছে। দেশমের হাতে ছিল একের পর এক অসাধারণ প্রতিভায় ভরা প্রজন্ম। সেই বিবেচনায় এত প্রতিভাবান দল নিয়ে মাত্র একটি শিরোপা জেতা অনেকে ন্যূনতম প্রত্যাশা পূরণ বলেই মনে করেন। কিন্তু তর্ক-বিতর্ক সরিয়ে রাখলে, দেশমের নামের পাশে অসংখ্য মাইলফলক বিদ্যমান। আপাতত সেমিফাইনালে হার হজম করার চেষ্টা করতে হচ্ছে। এটি ছিল এক অপ্রত্যাশিত আত্মসমর্পণ! এই ম্যাচ শেষে খেলোয়াড়দের ভেঙে পড়ার কথা বলেছেন দেশম এবং একই সঙ্গে এল সালভাদরের রেফারি ইভান বার্টনের দিকে আঙুল তুলেছেন। প্রথমার্ধে লুকাস দিনিয়ে লামিনে ইয়ামালকে ফাউল করার পর স্পেনকে পেনাল্টি দেওয়ার ক্ষেত্রে এই রেফারি কি প্রয়োজনীয় মান বজায় রেখেছিলেন? দেশম বলেন, ‘আমি একটি প্রশ্ন করব, তবে তার উত্তর দেব না। বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে এই রেফারি কি উপযুক্ত ছিলেন? শুধু আজকের হারের জন্য বলছি না।
ম্যাচে অনেক পরিস্থিতি ছিল। অবশ্য কিছু সিদ্ধান্ত আমাদের পক্ষেও ছিল।’ ফাইনাল ম্যাচে হারের পর হতাশার কথা স্বীকার করে দেশম বলেন, ‘অবশ্যই হতাশা অনেক। আমাদের খেলোয়াড়েরা ভেঙে পড়েছে। আমাদের লক্ষ্য অনেক বড় ছিল। তবে বাস্তবতা মেনে নিতে হবে। কৌশলগত দিক থেকে আমরা প্রতিপক্ষের চেয়ে এক ধাপ পিছিয়ে ছিলাম। স্পেন ম্যাচটি খুব ভালোভাবে নিয়ন্ত্রণ করেছে।’ তবে এই পরাজয়ের দায়ভার নিজেরা নিতে প্রস্তুত দেশম, ‘সবার আগে এটা আমাদেরই ব্যর্থতা। আমি এর জন্য অন্য কাউকে দোষ দিতে চাই না।’।