Published : 23 Jul 2026, 03:15 AM
পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান স্পষ্ট করেছেন যে দেশের বৈদেশিক সম্পর্ক পরিচালনার ক্ষেত্রে সরকারের 'বাংলাদেশ ফার্স্ট' বা 'সবার আগে বাংলাদেশ' নীতিই প্রধান চালিকাশক্তি হবে। ফিলিপাইনের রাজধানী ম্যানিলায় চীন, রাশিয়া এবং যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে পৃথক দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে তিনি এই নীতির গুরুত্ব তুলে ধরেন। এই আলোচনাগুলো আসিয়ান আঞ্চলিক ফোরামের (এআরএফ) পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকের ফাঁকে অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবিরও উপস্থিত ছিলেন। এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, জ্বালানি ও যোগাযোগসহ বিভিন্ন দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিষয়াদি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে জোর দিয়ে বলা হয়, জাতীয় স্বার্থ সুরক্ষিত রাখতে এই 'বাংলাদেশ ফার্স্ট' নীতিই পররাষ্ট্র সম্পর্ক পরিচালনার মূল ভিত্তি হবে। আলোচনা চলাকালীন, চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ইয়ের সঙ্গে দুই দেশ অভিন্ন ভবিষ্যতের চীন-বাংলাদেশ সম্প্রদায় গড়ে তোলার লক্ষ্যে বিদ্যমান সহযোগিতামূলক অংশীদারত্বকে আরও জোরদার করার বিষয়ে একমত হয়।
একইসঙ্গে, দুই পক্ষ জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত মিয়ানমারের নাগরিকদের প্রত্যাবাসন, বহুমুখী পরিবহন করিডর, বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও জ্বালানি খাতে সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিষয়ে আলোচনা করে। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী কর্তৃক রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভের সঙ্গে পৃথক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হওয়ায় লাভরভ খলিলুর রহমানকে অভিনন্দন জানান। দুই পক্ষ বাংলাদেশের সঙ্গে রাশিয়ার বিদ্যমান সহযোগিতা পর্যালোচনা করে জ্বালানি খাতে সহযোগিতা আরও বৃদ্ধি করতে সম্মত হয়। পরের দিন বিকেলে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেন। এই আলোচনায় দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার উপায় নিয়ে আলোচনা হয়।
এই সময় খলিলুর রহমান মার্কো রুবিওকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রীও ইউএনজিএ-র সভাপতির দায়িত্ব পালনের জন্য বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানান। সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, চীন, রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এই পৃথক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকগুলো 'বাংলাদেশ ফার্স্ট' পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করে জাতীয় স্বার্থ সমুন্নত রেখে প্রধান বৈশ্বিক শক্তিগুলোর সঙ্গে সহযোগিতা আরও বিস্তৃত করার বাংলাদেশের প্রচেষ্টার প্রতিফলন।।