Published : 26 May 2026, 05:22 AM
সেনেগালের প্রধানমন্ত্রী ওসমান সোনকোকে অপ্রত্যাশিতভাবে অপসারণের পর, দেশটির প্রেসিডেন্ট বাসিরু দিওমায়ে ফায়ে এক অভিজ্ঞ অর্থনীতিবিদকে নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিযুক্ত করেছেন। গতকাল সোমবার এক সরকারি ঘোষণায় সেন্ট্রাল ব্যাংকের প্রাক্তন কর্মকর্তা আহমাদু আল আমিনু লু-কে এই গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ দেওয়া হয়। প্রেসিডেন্ট ফায়ে মনে করেন, দেশের কঠিন অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং ক্রমবর্ধমান ঋণের বোঝা সামাল দিতে লু-এর মতো দক্ষ অর্থনীতিবিদের নেতৃত্ব অপরিহার্য। কয়েক মাসের টানাপোড়েন ও মতবিরোধের পর গত শুক্রবার সোনকোকে বরখাস্ত করেন ফায়ে, যা দেশটিতে গভীর রাজনৈতিক অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। নতুন প্রধানমন্ত্রী লু এর আগে ‘ওয়েস্ট আফ্রিকান স্টেটস-এর সেন্ট্রাল ব্যাংক’-এ কর্মরত ছিলেন। দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম ভাষণে তিনি বলেন, “আর্থিক চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও সেনেগাল একটি স্থিতিশীল ও উন্নত দেশ হিসেবে টিকে থাকবে।” তিনি আরও স্পষ্ট করেন, এটি নীতির পরিবর্তন নয়, বরং কর্মপদ্ধতির আধুনিকীকরণ।
বর্তমানে সেনেগালের ঋণের পরিমাণ জিডিপির ১৩২ শতাংশে পৌঁছে গেছে। ২০২৪ সালে ফায়ে ও সোনকো ক্ষমতায় আসার পর পূর্ববর্তী সরকারের ঋণের তথ্য গোপন করার অভিযোগ তোলেন, যার ফলস্বরূপ আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ১৮০ কোটি ডলারের সহায়তা কর্মসূচি স্থগিত হয়ে যায়। প্রেসিডেন্ট ফায়ে এখন আইএমএফ-এর সঙ্গে নতুন ঋণচুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে আগ্রহী, যেখানে সোনকো অভ্যন্তরীণভাবে অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতার উপর জোর দিতেন। এই মতপার্থক্যই মূলত দুই নেতার মধ্যে দূরত্ব তৈরি করে। এদিকে, আজ মঙ্গলবার সেনেগালের পার্লামেন্টে সোনকোকে স্পিকার হিসেবে নির্বাচিত করা হবে কিনা, তা নিয়ে ভোটাভুটি হওয়ার কথা রয়েছে। গত রোববার স্পিকার এবং সোনকোর ঘনিষ্ঠ সহযোগী এল মালিক এনদিয়ায়ে পদত্যাগ করায় এই সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। ১৬৫ আসনের পার্লামেন্টে সোনকোর দল ‘পাস্তেফ’-এর ১৩০ জন সদস্য থাকায় তাঁর স্পিকার হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল।
তবে বিরোধী দলগুলো একে ‘সাংবিধানিক ক্যু’ আখ্যা দিয়ে তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছে। প্রধান বিরোধী জোটের নেত্রী আয়েসাতা তাল সাল বলেন, সোনকোর স্পিকার পদের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা অবৈধ এবং প্রেসিডেন্ট ফায়ে-র উচিত সাংবিধানিক কাউন্সিলের পরামর্শ নেওয়া। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, স্পিকার নির্বাচিত হলে সোনকো পার্লামেন্টে তাঁর সংখ্যাগরিষ্ঠতা ব্যবহার করে প্রেসিডেন্ট ফায়ে-র ক্ষমতাকে চ্যালেঞ্জ জানাতে পারেন। এছাড়াও, সম্প্রতি নির্বাচনী আইন সংশোধনের ফলে ২০২৯ সালের নির্বাচনে সোনকোর অংশগ্রহণের পথে বাধা দূর হয়েছে। এর ফলে একসময়ে ঘনিষ্ঠ মিত্র থাকা এই দুই নেতা ভবিষ্যতে একে অপরের বিরুদ্ধে শীর্ষ পদের লড়াইয়ে অবতীর্ণ হতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।।