Published : 21 Jun 2026, 01:38 PM
যখন কোনো তারকা বড় লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুত হন, তখন তাদের জীবনসঙ্গীরা কীভাবে সেই উত্তেজনাকে ভাগ করে নেন? কেউ নীরব প্রার্থনায় মগ্ন থাকেন, কেউ মোমবাতি জ্বালিয়ে অপেক্ষা করেন, আবার কেউ উদ্বেগে চুপচাপ বসে থাকেন। মানুষের এই ভালোবাসার প্রকাশভঙ্গি সত্যিই মনোমুগ্ধকর। কিন্তু ফুটবল যে দেশের হৃদয়ে স্পন্দিত, সেই ব্রাজিলে এই ভালোবাসার প্রকাশ ভিন্ন পথে। ব্রাজিলের ফুটবলারদের স্ত্রী বা সঙ্গীরা উদ্বেগ কাটাতে বেছে নিয়েছেন এক অভিনব কৌশল—নখের ক্যানভাসে দেশের রঙ ও প্রতীক এঁকেছেন। এটি কেবল সাজ নয়, এটি এক গভীর আবেগের বহিঃপ্রকাশ। মরক্কোর বিরুদ্ধে আসন্ন ম্যাচের আগে এই প্রবণতা আবারও চোখে পড়েছে। নেইমার, রাফিনিয়া এবং অন্যান্য ফুটবলারদের সঙ্গীরা সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজেদের হাতের নতুন সাজ ভাগ করে নিয়েছেন—কেউ স্বামীর জার্সির নম্বর এঁকেছেন, আবার কেউ দেশের পতাকার রঙে নিজের নখ রাঙিয়েছেন।
এই ট্রেন্ডের কিছু উজ্জ্বল উদাহরণ দেখা যাক: * **এন্ড্রিকের স্ত্রী গ্যাব্রিয়েল মিরান্দা**, যিনি একজন ডিজিটাল ইনফ্লুয়েন্সার, তিনি তাঁর এক আঙুলের নখে ব্রাজিলের ১৯ নম্বর এঁকেছেন, যা তাঁর স্বামীর জার্সি নম্বর। বলতে গেলে, মাঠে নামার আগেই তাঁর সঙ্গী তাঁর নাম-নম্বর হাতে নিয়ে নেমেছেন। * **লুকাস পাকেতার স্ত্রী দুদা ফোরনিয়ে** চিরাচরিত 'ফ্রেঞ্চ ম্যানিকিউর'-এর বদলে সাদা রঙের জায়গায় সবুজ-হলুদ মিশিয়ে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছেন। * **ব্রুনো গিমারায়েসের স্ত্রী আনা লিদিয়া** সরাসরি ব্রাজিলের পতাকার রং বেছে নিয়েছেন নখের সাজে। * ইনফ্লুয়েন্সার **ক্যারল ক্যাব্রিনো**, ব্রাজিলের অধিনায়ক মারকিনিওসের স্ত্রী, তিনি হলুদ রঙে একরঙা স্টাইলে সাজিয়েছেন। সবচেয়ে মজার গল্পটি হলো রাফিনিয়ার স্ত্রী নাতালিয়া রদ্রিগেস বেলোলির। তিনি জানিয়েছেন, সময়ের অভাবে নখ ডিজাইনের জন্য বাইরে যাওয়ার সুযোগ হয়নি, তাই তিনি নিজেই বসে নিজের নখ রং করে এই শিল্পকর্ম তৈরি করেছেন! অনেকের মনে প্রশ্ন জাগতে পারে, এই নখ-সাজ কি নতুন কোনো ফ্যাশন? উত্তর হলো, না।
বরং এটি ব্রাজিলে এক নতুন সাংস্কৃতিক ধারা তৈরি করেছে, যার নাম দেওয়া যেতে পারে—‘ব্রাজিলকোর’ বা ‘ব্রাজিলিয়ান অ্যাসথেটিক’। ২০২২ কাতার বিশ্বকাপের সময় এই ট্রেন্ড দ্রুত জনপ্রিয় হয়, যেখানে জাতীয় দলের জার্সি, দেশের নাম লেখা পোশাক এবং সবুজ-হলুদ-নীল রঙের জিনিসপত্র মূল আকর্ষণ হয়ে ওঠে। এই সময়ে নেইল আর্ট নিয়ে সবুজ, হলুদ ও নীল রং মিশিয়ে নকশা করার গাইডলাইনও তৈরি হয়। এই উন্মাদনা শুধু ফুটবলারদের স্ত্রীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; ব্রাজিলের বহু নারীরাও এই কাজটি করে চলেছেন। তাদের সকলের একটাই লক্ষ্য—ব্রাজিলের জয় কামনা। আগামীকাল ভোর চারটায় ব্রাজিল যখন মরক্কোর বিরুদ্ধে মাঠে নামবে, তখন স্ত্রী-সঙ্গীদের এই শৈল্পিক প্রচেষ্টা কি তাদের জন্য বাড়তি অনুপ্রেরণা দেবে? নিঃসন্দেহে, এই সাজগুলো সেই আবেগের এক উজ্জ্বল প্রতীক।।