Published : 04 Jun 2026, 05:10 PM
নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার বড়ভিটা ইউনিয়নের ডাঙ্গাপাড়া গ্রামে এক মর্মান্তিক ঘটনা সামনে এসেছে। অভিযোগ উঠেছে, এক ছেলের হাতেই মাকে খুন করে তার দেহ ঘরের মেঝেতে পুঁতে রাখা হয়েছে। গতকাল বুধবার দিবাগত রাত সাড়ে এগারোটার দিকে পুলিশ ঘরের মেঝে খুঁড়ে মারুফা বেগম (৬০) নামের ওই নারীর অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করে। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পেছনে অভিযুক্ত ছেলেটি বর্তমানে পলাতক। নিহত মারুফা বেগম ওই গ্রামের মৃত আশরাফ আলীর স্ত্রী ছিলেন। অভিযুক্ত ছেলে জুয়েল ইসলাম (৩৫) পেশায় ভ্যানচালক।
জুয়েল ইসলামের ছোট ভাই লাবিন ইসলাম জানিয়েছেন, ঈদের ছুটিতে বাড়ি ফিরে শ্বশুরবাড়ি থেকে চলে যাওয়ার পর তিনি মাকে খুঁজে পাননি। শ্বশুরবাড়ি থেকে নিজ বাড়িতে ফেরার পর জুয়েল তার বড় ভাইয়ের শোবার ঘরের মেঝেতে অস্বাভাবিক ফাটল এবং রক্তের দাগ দেখতে পান, যা তাকে সন্দেহপ্রবণ করে তোলে। এই পরিস্থিতিতে তিনি পুলিশকে খবর দেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে ঘরের মাটি খুঁড়ে অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করে। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ অনুমান করছে, দুই দিন আগে মাথায় আঘাত করে ওই নারীকে হত্যা করে ঘরের মেঝেতে দেহাবশেষ ফেলে রাখা হয়েছে। কিশোরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. লুৎফর রহমান প্রথম আলোকে জানান, এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে নিহত নারীর ছোট ছেলে লাবিন ইসলাম বাদী হয়ে আজ বৃহস্পতিবার থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।
মামলায় জুয়েল ইসলামকে সন্দেহভাজন হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, যদিও সে অজ্ঞাতনামা। জুয়েল ইসলাম বর্তমানে পলাতক। তবে তার স্ত্রী হাসি বেগম এবং ছেলে গোলাম রাব্বীকে থানায় আনা হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য লাশ নীলফামারী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।।