Published : 10 Aug 2026, 03:16 PM
রাজশাহীর বাগমারার শ্যামল উদ্দিন মাঝি (৪৬) আট বছর আগে দেশের সচ্ছলতার স্বপ্ন নিয়ে সৌদি আরবে পাড়ি দিয়েছিলেন। কিন্তু সেই সময়ের মধ্যে তিনি ঘরে নতুন টিন দেওয়ার মতো সামান্য কাজ ছাড়া আর কিছু করতে পারেননি। এক সপ্তাহের মধ্যে দেশে ফেরার কথা ছিল তাঁর, যা ছিল তাঁর পরিবারের কাছে এক বিরাট প্রতীক্ষা। দুর্ভাগ্যবশত, এই প্রত্যাশার সময়েই ঘটে গেল এক ভয়াবহ বিপর্যয়। গতকাল রোববার রাতে সৌদি আরবের রিয়াদের মানফুয়া এলাকায় একটি সোফা তৈরির কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে ১৬ জন বাংলাদেশি নিহত হন, যাদের মধ্যে শ্যামল উদ্দিনও রয়েছেন। এই মর্মান্তিক ঘটনার পর আজ সকালে শ্যামলের বাড়িতে পৌঁছালে দেখা যায়, তাঁর পরিবার গভীর শোকে মুহ্যমান।
স্ত্রী রশিদা খাতুন (৪২) প্রায়শই কান্নার মাঝে সংজ্ঞা হারিয়ে ফেলছেন এবং প্রতিবেশীরা তাঁকে সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করছেন। এই শোকের মধ্যে রশিদা খাতুন জানান, স্বামীর সঙ্গে তাঁর শেষ কথা ছিল যে, 'তুমি বাড়ি আসবে বললে, আর রাতে তোমার মৃত্যুর খবর পাবো।' গতকাল সকালে স্বামীর সঙ্গে তাঁর এই শেষ কথোপকথন হয়। জহির উদ্দিন, শ্যামলের স্ত্রীর বড় ভাই জানিয়েছেন, ওই সময় শ্যামলসহ অন্যান্য শ্রমিকরা কারখানায় কাজ করছিলেন এবং সিগারেট খেতে বাইরে যাওয়ায় তারা আগুন থেকে বেঁচে যান। তিনি আরও জানান, আট বছর আগে আত্মীয়স্বজনের কাছ থেকে টাকা নিয়ে শ্যামলকে বিদেশে পাঠানো হয়েছিল এবং এরপর তিনি আর দেশে ফেরেননি। এত দিন পর প্রথমবারের মতো এক সপ্তাহের মধ্যে তাঁর দেশে ফেরার কথা ছিল।
এই দুর্ঘটনায় পরিবারটি সম্পূর্ণভাবে অসহায় হয়ে পড়েছে। প্রতিবেশী ও সাবেক ঝিকড়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান জানান, শ্যামল পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন। তাঁর তিন মেয়ে, যাদের মধ্যে বড় মেয়ের বিয়ে হয়ে গেছে এবং বাকি দুজন এখনও ছোট। এই আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবারটির জীবনযাত্রা পুরোপুরি বিপর্যস্ত। বাগমারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সেলিম আহমেদ পরিবারটির পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন।।