Published : 14 Jul 2026, 09:13 AM
১৮ বছর বিদেশে কাটানোর পর প্রবাস থেকে ফিরেছিলেন মো. সেলিম (৫৫)। প্রবাস থেকে অর্জিত সঞ্চয় দিয়ে তিনি পৈতৃক চার শতক জমিতে একটি মজবুত পাকা বাড়ি নির্মাণ করেছিলেন। কিন্তু প্রকৃতির রুদ্ররোষ এবং টানা বর্ষণের মুখে সেই স্বপ্ন মুহূর্তেই দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়। চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার বাসিন্দা মো. সেলিমের পরিবার গত সপ্তাহের তীব্র বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের শিকার হয়। ডলু নদের প্রবল স্রোতে ভেসে যায় তাঁর স্বপ্নের পাকা বসতঘর এবং ভিটেমাটি। মো. সেলিমের বাড়িটি ডলু নদের তীর ঘেঁষে ছিল। গত বৃহস্পতিবার দুপুরে এই ঘরটি সম্পূর্ণ ধসে পড়ে যায়। একই সাথে তাঁর সমস্ত সম্পত্তি নদে বিলীন হয়ে যায়।
এই আকস্মিক ঘটনায় সেলিমের পরিবার সম্পূর্ণ দিশেহারা। তিনি জানান, সারা জীবনের কঠোর পরিশ্রমের ফল যেন চোখের পলকে ধসে গেল। জানা গেছে, গত বুধবার মধ্যরাতে ডলু নদের জলস্তর বেড়ে তীব্র স্রোতে রাস্তা ভেঙে যায় এবং সেই জলের তোড়ে বাড়িটির সীমানা প্রাচীরও ভেঙে পড়ে। এই ভয়াবহ অভিজ্ঞতার পর প্রতিবেশী ও গ্রামবাসীরা ছুটে আসেন এবং পরিবারের সদস্যদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেন। মো. সেলিম গভীর বেদনায় বলেন, ‘সারা জীবনের সঞ্চয়ে এই পাকা ঘরটি তৈরি করেছিলাম, কিন্তু প্রকৃতির এই বিধ্বংসী রূপে তা নিমেষে ধসে গেল। এখন কোথায় আশ্রয় পাব, কী করব, কিছুই বুঝতে পারছি না।’ মো. সেলিম আরও জানান, তিনি এই চার শতক জমি থেকেই বাড়িটি তৈরি করেন এবং তাঁর সাত ভাই রয়েছে। বন্যা পরিস্থিতি সাতকানিয়া উপজেলায় ভয়াবহ আকার ধারণ করে, যেখানে চার লাখেরও বেশি মানুষ পানিবন্দী।
তবে বর্তমানে পরিস্থিতি কিছুটা স্থিতিশীল হয়েছে। বন্যার জল নামার সঙ্গে সঙ্গে এলাকার ক্ষয়ক্ষতি স্পষ্ট হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে আজ সোমবার বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শনে এসে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত ত্রাণ বিতরণ করেন। তিনি সাংবাদিকদের আশ্বাস দেন যে, ক্ষতিগ্রস্তদের ঘরবাড়ি মেরামতের জন্য সরকার পূর্ণ সহায়তা দেবে। পাশাপাশি ফসলি জমি, মাছের ঘের এবং গবাদি পশুর মতো উপার্জনের ক্ষেত্রগুলো যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, তার জন্য সরকার সব ধরনের পদক্ষেপ নেবে। মন্ত্রী আরও বলেন, বর্তমানে সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার হলো বন্যাদুর্গতদের উদ্ধার ও ত্রাণ সহায়তা প্রদান এবং ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণের পর পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা।।