Published : 30 Apr 2026, 03:06 AM
ভারতের দিল্লি হাইকোর্টের অনলাইন কার্যক্রমে এক অভাবনীয় ঘটনা ঘটেছে। বুধবার দুপুরে ভার্চুয়াল আদালতের ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের সময় এক অজ্ঞাত পরিচয় ব্যক্তি যুক্ত হয়ে অশ্লীল ভিডিও প্রদর্শন করেন। দুপুর ১২টার পর প্রধান বিচারপতি ডি কে উপাধ্যায় ও বিচারপতি তেজস কারিয়ার এজলাসে শুনানি চলছিল। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভিডিও কনফারেন্সিং প্ল্যাটফর্ম সিংকো ওয়েবেক্স ব্যবহার করা হচ্ছিল। হঠাৎ এক আইডি যুক্ত হয়ে স্ক্রিন শেয়ার করে অশ্লীল দৃশ্য দেখানো শুরু করে। আদালত কর্তৃপক্ষ দ্রুত সংযোগ বিচ্ছিন্ন করলেও কয়েক মিনিটের মধ্যেই একই ঘটনা ঘটে। তৃতীয় দফায় অনুপ্রবেশকারী পর্নোগ্রাফি চালানোর পাশাপাশি একটি অডিও বার্তায় দাবি করে, ‘এটি যুক্তরাষ্ট্র থেকে হ্যাক করা হয়েছে... মিটিং বন্ধ করুন। আপনারা হ্যাকড হয়েছেন।
’ এই ঘটনায় ভারতের অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল (এএসজি) চেতন শর্মা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এটি কেবল একটি আদালতে নয়, দিল্লি হাইকোর্টের একাধিক এজলাসে পরিকল্পিতভাবে ঘটানো হয়েছে। এটি বিচার বিভাগের পবিত্রতা ও অখণ্ডতার ওপর সরাসরি আঘাত। এএসজি তথ্যপ্রযুক্তি আইনের অধীনে সরকারের কাছে দ্রুত এই ঘটনার ভিডিওগুলো ইন্টারনেট থেকে সরিয়ে ফেলার ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন জানান। প্রধান বিচারপতি ডি কে উপাধ্যায় আদালতকে জানান, রেজিস্ট্রার জেনারেলকে প্রশাসনিকভাবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং আইন অনুযায়ী অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মধ্যাহ্নভোজের বিরতির পর হাইকোর্টের কার্যক্রম পুনরায় শুরু হলে ভার্চুয়াল শুনানির পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনা হয়। আদালত কক্ষের ভিডিও কনফারেন্সিং লিংক ‘লক’ করে দেওয়া হয়েছে, যাতে মডারেটরের অনুমতি ছাড়া কেউ যুক্ত হতে না পারে। চ্যাটবক্সে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, যেখানে অংশগ্রহণকারীদের নাম ও মামলার নম্বর দেখাতে বলা হয়েছে, অন্যথায় তাঁদের সরিয়ে দেওয়া হবে। দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে, আনুষ্ঠানিক অভিযোগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তারা তদন্ত শুরু করবে।
ভারতে আদালতের শুনানিতে এই ধরনের ঘটনা এটাই প্রথম নয়। এর আগে ২০২৩ সালে কর্ণাটক হাইকোর্টেও একই কায়দায় ছয়টি এজলাসে পর্নোগ্রাফি চালানো হয়েছিল, যার ফলে কয়েকদিনের জন্য ভার্চুয়াল শুনানি বন্ধ রাখতে হয়েছিল। দিল্লি হাইকোর্টের বিধি অনুযায়ী, অনুমতি ছাড়া আদালতের কার্যক্রম রেকর্ড করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। বিশ্লেষকেরা মনে করেন, বিচার ব্যবস্থার ডিজিটালাইজেশনের যুগে সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। আদালতের মর্যাদা রক্ষায় এই ধরনের সাইবার হামলা কঠোর হাতে দমন করা উচিত বলে আইনজীবীরা মনে করেন।।