Published : 11 Jul 2026, 07:15 AM
মাঠ ছাড়ার সময় থিবো কোর্তোয়া গভীর বেদনায় নিমজ্জিত ছিলেন। বয়স যখন চব্বিশ পেরিয়েছে, নকআউট ম্যাচের এই কঠিন পরিস্থিতিতে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত খেলার আকাঙ্ক্ষা তাঁর মনে ছিল। বেলজিয়ামের গোলকিপার হিসেবে বিশ্বকাপ মঞ্চে তাঁর শেষ মুহূর্তগুলো কি সত্যিই এমন ছিল? এই প্রশ্নের উত্তর সময়ই দেবে। তবে এবারের বিশ্বকাপে কোর্তোয়া এবং তাঁর দল হয়তো বিদায় নিয়েছে। এই বিদায়ের পেছনে গোলকিপারের বদলির সিদ্ধান্ত একটি বড় ভূমিকা রেখেছে। বেলজিয়ামের কোচ রুডি গার্সিয়া কোর্তোয়াকে সরিয়ে অন্য গোলকিপারকে মাঠে নামান। আর সেই বদলির ফলস্বরূপ, দ্বিতীয় গোল হজম করে স্পেনের কাছে ২-১ গোলে পরাজয় বরণ করে বেলজিয়াম। ম্যাচ শেষে কোর্তোয়া জানান, তিনি খেলা চালিয়ে যেতে চেয়েছিলেন। কিন্তু কোচ তাঁকে মাঠে রাখতে রাজি ছিলেন না। ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে একটি লম্বা কিক নেওয়ার সময় ঊরুর সামনের পেশিতে তীব্র ব্যথা অনুভব করেন কোর্তোয়া। কয়েকটি সেভ করলেও ব্যথা বাড়ে।
তবুও তাঁর বিশ্বাস ছিল, আরও কিছুক্ষণ খেলা সম্ভব। তিনি বলেন, "ঊরুর সামনের পেশিতে অনেক ব্যথা ছিল, কিন্তু গোলপোস্টে দাঁড়িয়ে থাকতে আমার কোনো সমস্যা ছিল না, শুধু লম্বা কিক নিতে অসুবিধা হচ্ছিল। শেষ পর্যন্ত কোচই আমাকে সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।" যদিও কোর্তোয়া এই সিদ্ধান্ত নিয়ে কিছুটা অসন্তুষ্ট ছিলেন না, কারণ তিনি দলের স্বার্থকে সবার আগে গুরুত্ব দেন। কোচ রুডি গার্সিয়াকে এই বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, "বিশ্বকাপের শুরু থেকেই আমার ভাবনা ছিল, এমন খেলোয়াড়কে মাঠে রাখা উচিত নয়, যিনি শতভাগ ফিট নন। আজ কোর্তোয়ার ক্ষেত্রেও সেটাই ঘটেছে।" এই ঘটনার মাঝে একটি স্মরণীয় মুহূর্ত ঘটেছিল। ২৪ বছর বয়সী গোলকিপার সেনে লামেন্সের বিশ্বকাপে প্রথম ম্যাচের সময়, ৮৮তম মিনিটে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের গোলকিপার পাউ কুবারসির শট ঠিকমতো গ্রিপ করতে না পারায় নাগালে যান মিকেল মেরিনো, যেখান থেকে গোল করতে ভুল করেননি স্প্যানিশ মিডফিল্ডার। ম্যাচ শেষে বদলি গোলকিপারের পাশে দাঁড়িয়ে কোর্তোয়া বলেন, "আমি তাকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরেছি। ওই মুহূর্তে এর বেশি কিছু করার ছিল না। সে সত্যিই একজন অসাধারণ গোলকিপার।
এই অভিজ্ঞতা তাকে আরও শক্তিশালী করে তুলবে।" এই অভিজ্ঞতা লামেন্সের জন্য অত্যন্ত কঠিন ছিল। দল কোয়ার্টার ফাইনালে বিদায় নিয়েছে। পরবর্তী বিশ্বকাপে তারা খেলবে কিনা, তা আপাতত অজানা। তবে আগামী এক বছর বেলজিয়ামের হয়ে খেলা থেকে বিরতি নিতে চান কোর্তোয়া। তিনি সংবাদ সম্মেলনে জানান, "আমি এক বছর বেলজিয়ামের হয়ে কোনো ম্যাচ খেলতে চাই না। এরপর ইউরো বাছাইপর্ব এবং ২০২৮ ইউরোতে খেলার ইচ্ছা আছে। বেলজিয়াম এ ব্যাপারে রাজি হবে কিনা, তা জানি না।" কোর্তোয়ার এই সিদ্ধান্ত সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে কোচ গার্সিয়া জানান যে তিনি বা তাঁর দলের অন্য খেলোয়াড়েরা এই বিষয়ে অবগত নন।।