Published : 05 Jun 2026, 11:12 PM
বিবাহের আনুষ্ঠানিকতার অল্প সময়ের মধ্যেই আলোচিত উপস্থাপিকা দীপ্তি চৌধুরী তাঁর নতুন জীবনের ছবি ও এক গভীর আবেগময় বার্তা সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশ করেছেন। তিনি তাঁর স্বামীকে সম্বোধন করে লিখেছেন, ‘মাস্টার সাহেব, আপনি আমার জন্য দুফোঁটা চোখের জল ফেলেছেন, তার বিনিময়ে আমি জনম জনম কাঁদিব!’ এই পোস্টটি মুহূর্তেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। চ্যানেল আইয়ের জনপ্রিয় অনুষ্ঠান ‘টু দ্য পয়েন্ট’ এবং ‘স্ট্রেইট কাট’-এর মাধ্যমে পরিচিতি লাভ করা দীপ্তি চৌধুরীর বিবাহ আজ শুক্রবার সম্পন্ন হয়েছে। ঢাকার বাংলামোটরে দুই পরিবারের ঘনিষ্ঠজন ও আত্মীয়স্বজনের উপস্থিতিতে এই পবিত্র বন্ধনে আবদ্ধ হন তিনি। পারিবারিক পরিবেশে এই আক্দ সম্পন্ন হওয়ায় দুই পরিবারের শুভাকাঙ্ক্ষীরা উপস্থিত ছিলেন। দীপ্তি চৌধুরীর স্বামী মুশতাক ইবনে আইয়ুব, যিনি শিক্ষক ও গবেষক পেশায় নিযুক্ত। উচ্চশিক্ষার জন্য তিনি যুক্তরাজ্যে পড়াশোনা করেছেন এবং বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড বায়োটেকনোলজি বিভাগে সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত।
বিয়ে প্রসঙ্গে পরিবারের এক সদস্য নিশ্চিত করেছেন, ‘আজ আক্দ হয়েছে। পরবর্তীকালে বড় আয়োজনে বিবাহোত্তর সংবর্ধনায় সবাইকে আমন্ত্রণ জানানো হবে। সবার কাছে দীপ্তির নতুন জীবনের জন্য দোয়া কামনা করি।’ অনুষ্ঠানের পর সন্ধ্যায় দীপ্তি চৌধুরী তাঁর ফেসবুক অ্যাকাউন্টে নবদম্পতির হাসিখুশি মুহূর্তের আরও কিছু ছবি পোস্ট করেন। ছবিগুলিতে নবদম্পতি হাসিখুশি ও প্রাণবন্ত রূপে ধরা দিয়েছেন। ছবিতে স্বামীকে ‘মাস্টার সাহেব’ বলে সম্বোধন করে লেখা তাঁর আবেগঘন বার্তাটি দ্রুতই নেটিজেনদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। মন্তব্যের ঘরে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন বার্তা সমালিবছেন সহকর্মী, বন্ধু এবং শুভাকাঙ্ক্ষীরা।
বিয়ে প্রকাশের পর থেকেই দীপ্তি চৌধুরীকে ঘিরে সামাজিক মাধ্যমে আলোচনা তুঙ্গে। ভক্ত-অনুরাগীগণ তাঁর নতুন জীবনের জন্য শুভকামনা জানিয়েছেন। প্রসঙ্গত, দীপ্তি চৌধুরীর ব্যবহৃত এই বাক্যটি কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের একটি বিখ্যাত সংলাপের প্রতিধ্বনি। মূল লেখায় হুমায়ূন আহমেদ লিখেছিলেন, ‘ডাক্তার সাহেব, তুমি আমার জন্য দুফোঁটা চোখের জল ফেলেছ! তার প্রতিদানে আমি জনম জনম কাঁদিব।’ সাহিত্যপ্রেমীরা এই সংলাপটিকে নিজের বাস্তব জীবনের আবেগের সঙ্গে মিলিয়ে ‘ডাক্তার সাহেব’-এর পরিবর্তে ‘মাস্টার সাহেব’ ব্যবহার করেছেন। ফলে তাঁর বিয়ের ছবির সঙ্গে প্রকাশিত এই সংক্ষিপ্ত বার্তাটি কেবল ভালোবাসার প্রকাশই নয়, হুমায়ূন আহমেদের সাহিত্যজগতের প্রতি এক ধরনের নস্টালজিক ইঙ্গিত বহন করে।।