Published : 17 Jun 2026, 04:19 PM
গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার শিরিশগুড়ি গ্রামের স্বপন চন্দ্র বর্মণ (৪০) এক অসাধারণ জীবিকা নির্বাহের পথ খুঁজেছেন গজারি বনের গভীরে। দৃষ্টি থাকে গাছের মগডালে, যেখানে পাতাগুলো জড়ো হয়, সেখানেই লুকিয়ে থাকে তাঁর রোজগারের উৎস—প্রকৃতির ক্ষুদ্র দান, পিঁপড়ার ডিম। স্বপন আট বছর ধরে এই প্রাকৃতিক সম্পদ সংগ্রহ করে সংসার পরিচালনা করছেন। মা, বাবা, স্ত্রী এবং এক মেয়ের ভরণপোষণের দায়িত্ব তাঁর কাঁধে। এই পিঁপড়ার ডিম বিক্রি করেই তিনি সংসার চালান, যা স্থানীয়ভাবে ‘মাইজলের ডিম’ নামে পরিচিত এবং মাছশিকারিদের কাছে এর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। বাজারের চাহিদা অনুযায়ী, এই ডিমের দাম ঋতুভেদে প্রতি কেজি ৬০০ টাকা থেকে ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত পৌঁছায়।
স্বপন জানান, কঠোর পরিশ্রমের ফলস্বরূপ তিনি প্রতি মাসে প্রায় ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকা পর্যন্ত আয় করতে সক্ষম হন। ডিম সংগ্রহের পদ্ধতিও বেশ অভিনব। তিনি লম্বা ও হালকা বাঁশের ডগায় বিশেষ কাপড়ের থলে বেঁধে নেন, যার ওপর ছিদ্রযুক্ত জাল থাকে। বনের পাতা বা পিঁপড়া প্রবেশ করতে না দিয়ে, বাঁশের সাহায্যে পাতার গোছা নাড়িয়ে ঝাঁকুনি দিলে ডিমগুলো সরাসরি থলেতে পড়ে। গতকাল বুধবার দুপুরে বদনীভাঙ্গা গ্রামে এই পদ্ধতিতে তিনি বন থেকে ডিম সংগ্রহ করছিলেন। প্রতি সপ্তাহে পাঁচ থেকে ছয় দিন তিনি বনে যান এবং দিনে ৫০০ গ্রাম থেকে দেড় কেজি পর্যন্ত ডিম সংগ্রহ করতে পারেন।
তাঁর চারপাশের গজারি বনে ঘুরে ঘুরে তিনি এই মূল্যবান ডিম সংগ্রহ করেন। বছরের অধিকাংশ সময়ে প্রতি কেজি ডিম ৬০০ থেকে ৮০০ টাকায় বিক্রি হলেও, জুন, জুলাই ও আগস্ট মাসে চাহিদা বাড়ায় দাম দুই থেকে তিন হাজার টাকা পর্যন্ত ওঠে, যখন তাঁর আয় সবচেয়ে বেশি হয়। মাছশিকারিদের কাছে এই ডিম মাছ ধরার টোপ হিসেবে একেবারেই উপযোগী নয় বলে মনে করেন তারা। এই ঐতিহ্যবাহী সংগ্রহ পেশায় শুধু স্বপন নন, ওই গ্রামের আরও অন্তত ২০ থেকে ২৫ জন মানুষ এই জীবিকা নির্বাহের জন্য গজারি বনঘেরা এলাকায় এই কাজ করছেন। বনের আশপাশের বাসিন্দাদের জন্য এটি এক ভিন্ন ধরনের জীবনসংগ্রামের গল্প।।