Published : 28 Jul 2026, 07:27 PM
২০১৫ সালের বারো জানুয়ারি, আমি রাউজান স্টেশন মডেল সরকারি প্রাইমারি স্কুলের শিশু শ্রেণিতে পা রেখেছিলাম। বাবার হাত ধরে যখন প্রথমবার স্কুলের পথে যাত্রা করলাম, তখন এক অজানা উত্তেজনা ও কিছুটা উদ্বেগ আমাকে ঘিরে রেখেছিল। অচেনা পরিবেশ আর অপরিচিত মুখ—প্রথম দিকে কারো সাথে তেমন আলাপ হতো না। ধীরে ধীরে দিন কাটতে লাগল, ক্লাসের প্রতিটি মুহূর্ত যেন আপন করে নিতে শুরু করল। এভাবে আমি প্রথম থেকে চতুর্থ শ্রেণি পর্যন্ত আনন্দের সাথে এই পথচলা সম্পন্ন করলাম। কিন্তু পঞ্চম শ্রেণিতে ওঠার কিছুদিন পরেই করোনা মহামারির কারণে স্কুল বন্ধ হয়ে গেল।
সকল বন্ধুর সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হলো এবং দীর্ঘ সময় ঘরে বসে কাটাতে হলো। স্কুল বন্ধের অনেক দিন পর, ভাগ্যের নিমিষেই লটারির মাধ্যমে আমি উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণিতে ভর্তি হলাম। তখন ক্লাস করাও তেমন সহজ ছিল না। প্রাইমারি স্কুলের কিছু পুরনো বন্ধু থাকলেও, ক্লাসে প্রায় সব মুখই নতুন। কাউকে ভালোভাবে চেনার সুযোগ কম ছিল। এরপর সময় এগিয়ে চলল, এবং ধীরে ধীরে অচেনা মানুষগুলোও পরিচিত হয়ে গেল, অজানাও জানা হয়ে গেল।
এই সময়ে আমাদের সাত বন্ধুর একটি অবিচ্ছেদ্য দল তৈরি হলো, আর সেই দিনগুলো কত আনন্দময় ছিল! ক্লাস চলাকালীন পেছনের বেঞ্চে বসে টিফিনের সময় বা ছুটির দিনে বন্ধুদের সাথে আড্ডা দেওয়া, লুকিয়ে খাবার খাওয়া—এই স্মৃতিগুলো আজও অমলিন। প্র্যাকটিক্যালের ছবি নিখুঁত না হলে শিক্ষক অসন্তুষ্ট হবেন—এমন ভয় বা টিফিনের ছুটিতে বন্ধুদের সাথে বসে ছবি আঁকার যে আনন্দ, সবই এখন কেবল স্মৃতি। প্রতিদিন ব্যাগ কাঁধে স্কুলে যাওয়া, পিটিতে অংশ নেওয়া আর ক্লাস করা—এই সবকিছুই একসময় বেশ বিরক্তিকর মনে হতো। কিন্তু আজ সেই সময়গুলো ফিরে এসে মনে করিয়ে দেয়, কত সুন্দর ছিল সেই দিনগুলো! জীবন কখনও থেমে থাকে না, অবিরাম চলতে থাকে। এই ছোট জীবনে মাঝে মাঝে এমন কিছু সোনালী মুহূর্ত আসে, যা হয়তো আর ফিরে পাওয়া সম্ভব নয়; তবে তা হৃদয়ের গভীরে চিরকাল গেঁথে থাকে। ঠিক তেমনি, এই দশ বছরের স্কুল জীবন এখন কেবল স্মৃতির পাতায় উজ্জ্বল হয়ে থাকবে, হৃদয়ের গভীরে!।