Published : 15 Aug 2026, 11:16 AM
ঘরের কোণে বসে ভূমিকা জলদাস গভীর বেদনায় ডুবে আছেন। স্বামীর নাম ধরে বিলাপ করছেন তিনি, কারণ গতকাল শুক্রবার থেকে পলাশ জলদাস কাজে গিয়েছিলেন এবং আর ফিরে আসেননি। এই মর্মান্তিক ঘটনার পর ভূমিকা এখন সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা। মাস দুয়েক পরেই তাদের ঘরে নতুন অতিথির আগমন প্রত্যাশিত ছিল। স্বামীর অনুপস্থিতি তাঁকে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করে তুলেছে। জানা যায়, গত বছরের ১৫ ডিসেম্বরই ভূমিকার সঙ্গে ২৭ বছর বয়সী পলাশের বিবাহ হয়েছিল। তারা নিজেদের কোনো স্থায়ী ঠিকানা না থাকায় মামাদের বাড়িতে সেমি পাকা ঘরে সংসার চালাতেন। একসময় তারা মাছ ধরতেন, কিন্তু জীবিকা নির্বাহের জন্য জাহাজভাঙা কারখানায় শ্রমিক হিসেবে কাজ নিতে বাধ্য হন।
গতকাল সেই কারখানায় মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। স্ক্র্যাপ জাহাজ কাটার সময় বিষাক্ত গ্যাসের প্রভাবে পলাশসহ আরও ৯ জন শ্রমিকের মৃত্যু হয়। এই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় নিহতদের মধ্যে ভূমিকার স্বামী পলাশ ছিলেন। ঘটনাস্থলে মা শোভারানী জলদাস এবং হতবাক বাবা হরেন্দ্র জলদাস উপস্থিত ছিলেন। শোভারানী জলদাস কাঁদতে কাঁদতে বাবার দিকে তাকিয়ে বলেন, ‘বাবা, তুমি কোথায় চলে গেলে? আমি এখন কী নিয়ে বাঁচব? আমাদের প্রথম সন্তানের স্বপ্নটা পূরণ হবে না।’ পলাশ কাজে যাওয়ার আগে স্ত্রীকে সতর্ক করে বলেছিলেন, ‘আমি যাচ্ছি, সাবধানে থেকো।’ কিন্তু সেই সতর্কতা অমান্য করেই তিনি ফিরে আসেননি। এই দুর্ঘটনায় ওই এলাকার আরও দুই ভাই—মোহাম্মদ মনসুর ও মো. নাসির উদ্দিন—মারা যান।
তাদের মধ্যে মনসুরের বড় মেয়ে বিবাহিত এবং ছোট মেয়ে পড়াশোনা করছে। এছাড়া ঘটনাস্থলে সানি জলদাস নামে আরও এক ব্যক্তি নিহত হন। এই ঘটনাটি এলাকায় গভীর শোকের ছায়া ফেলেছে। একইসঙ্গে, ওই কারখানায় বিষক্রিয়ার কারণে আরও তিন জন শ্রমিক অসুস্থ হয়ে পড়েন। এই দুর্ঘটনায় পরিবারগুলো তাদের প্রিয়জনদের হারানোর শোকে দিন কাটাচ্ছে।।