Published : 09 Jul 2026, 05:13 AM
গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার চৌমাথা মোড় এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে উপজেলা প্রশাসন ১৪৪ ধারা জারি করেছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে একই সময়ে পরস্পরবিরোধী কর্মসূচি ঘোষণার ফলে এলাকায় তীব্র উত্তেজনা সৃষ্টি হওয়ায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দেওয়ায়। বিকেল ৪টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা হয়, যার আওতায় ৫০০ মিটার এলাকা থেকে পাঁচ বা ততোধিক ব্যক্তির সমাবেশ, অস্ত্র বা লাঠি বহন, স্লোগান বা মিছিল, এবং শব্দ যন্ত্র ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শেখ জাবের আহমেদ এই আদেশ জারি করেন। ইউএনও শেখ জাবের আহমেদ জানান, বরিশাল ইউনিয়নের দুটি রাজনৈতিক দলের মধ্যে সংঘাতের কারণে এই অঞ্চলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৮৯৮-এর ১৪৪ ধারা প্রয়োগ করা হয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় বিএনপির কিছু কর্মীর দ্বারা বরিশাল ইউনিয়নের ছাত্রশিবিরের এক নেতাকে মারধরের ঘটনা ঘটে, যা ব্যাপক উত্তেজনার জন্ম দেয়। এরপর উভয় পক্ষের দলবল বাজারে জড়ো হলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয় এবং রাত ১০টার দিকে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়। এই সংঘর্ষে পলাশবাড়ী উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবদুস সামাদসহ অন্তত আটজন আহত হন, যাদের মধ্যে তিনজনকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবদুস সামাদকে বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এই ঘটনার প্রতিবাদে উপজেলা বিএনপি আজ বিকেল চারটায় পলাশবাড়ী চৌমাথা মোড়ে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশের ডাক দেয়।
একই সময়ে উপজেলা জামায়াতে ইসলামীও একই স্থানে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশের আয়োজন করে। পলাশবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সারওয়ার আলম নিশ্চিত করেছেন যে ১৪৪ ধারা জারির পর ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছে। রাজনৈতিক দলগুলোর বক্তব্য অনুযায়ী, গতকাল রাতের ঘটনার প্রসঙ্গে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবু আলা মওদুদ মুঠোফোনে অভিযোগ করেন যে জামায়াতে ইসলামী ও শিবিরের কর্মীরা বিএনপির নেতাদের ওপর হামলা চালায়। অন্যদিকে, উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি সাখাওয়াত হোসেন জানান যে ফুটবল খেলার নামে বিএনপির কর্মীরা প্রথমে শিবিরের এক নেতাকে আক্রমণ করে এবং পরবর্তীতে দলবল নিয়ে জামায়াতে ইসলামীর কর্মীদের ওপর হামলা চালায়, যার ফলে চার-পাঁচজন আহত হন।।