Published : 27 Jun 2026, 04:07 AM
লালমনিরহাটের কালীগঞ্জে এক আওয়ামী লীগ নেতার গ্রেপ্তারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ওসির অপসারণের দাবিতে বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে তীব্র সংঘাত দেখা দিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে এক পক্ষের আন্দোলনের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন ও মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। রোববার দুপুরে কালীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির কার্যালয়ে এই সংবাদ সম্মেলন করে দলের অন্য পক্ষ তাদের দাবি জানায় এবং ওই পক্ষের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি তোলে। সংবাদ সম্মেলনে কালীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক শামসুজ্জামান জানান, নাশকতা মামলার আসামি ও কালীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আজিজার রহমানকে গ্রেপ্তার করেন কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু সিদ্দিক। এই আওয়ামী লীগ নেতাকে আত্মীয়তার সম্পর্ক দেখিয়ে উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক জাহাঙ্গীর আলম ওসির অপসারণের দাবিতে মাঠে নেমে প্রশাসনকে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। তিনি আরও বলেন, দলের নামে ধানের শীষের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে আওয়ামী লীগ পুনর্গঠনে সহায়তা ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় বিএনপির পক্ষ থেকে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
এর আগে কালীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির ব্যানারে তুষভান্ডার বাজার এলাকায় একটি বিক্ষোভ মিছিলের আয়োজন করা হয়। পরবর্তীতে দলীয় কার্যালয়ে এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। সম্প্রতি কালীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও চন্দ্রপুর ইউনিয়নের ইউপি চেয়ারম্যান মো. জাহাঙ্গীর আলমের সমর্থকরা কালীগঞ্জ থানার ওসি আবু সিদ্দিকের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ এনে তাঁর অপসারণের দাবিতে তুষভান্ডার বাজারে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশের আয়োজন করেন। এই বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে কালীগঞ্জে উপজেলা বিএনপি দুই পক্ষের মধ্যে বিভেদ প্রকাশ্যে আসে। এক পক্ষের নেতৃত্বে রয়েছেন লালমনিরহাট-২ আসনের এমপি রোকন উদ্দিন এবং উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক শামসুজ্জামান। অন্যদিকে, অন্য পক্ষের নেতৃত্বে রয়েছেন লালমনিরহাট-২ আসনে বিএনপির মনোনয়ন বঞ্চিত ও কালীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক জাহাঙ্গীর আলম।
এই বিষয়ে জানতে কালীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক জাহাঙ্গীর আলমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। অন্যদিকে, কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু সিদ্দিক দাবি করেন, যেসব অভিযোগ এনে বিএনপির এক পক্ষ সম্প্রতি তাঁর অপসারণের দাবি করে কর্মসূচি পালন করেছে, সেগুলো ভিত্তিহীন। তিনি জানান, নিয়ম অনুযায়ী মামলা বা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা থাকা ব্যক্তিদের আটক করে লালমনিরহাটের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। তিনি নিশ্চিত করেন যে তিনি কোনো নিরীহ বা নির্দোষ মানুষকে হয়রানি বা আটক করেননি।।