Published : 25 Aug 2026, 03:16 PM
ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে এক যুগান্তকারী পরিকল্পনার অংশ হিসেবে সরকার যৌন অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হাজার হাজার পুরুষ বন্দীর জন্য যৌনাকাঙ্ক্ষা কমানোর ওষুধ প্রয়োগের পরীক্ষামূলক কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। বিশেষজ্ঞ মহলের মতে, এই কর্মসূচিটি ২০২৮ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে চালু হওয়ার লক্ষ্যমাত্রা স্থির করা হয়েছে। এই উদ্যোগের পেছনে রয়েছে কারাগারের অভ্যন্তরে বন্দীদের মানসিক চাপ কমানোর একটি প্রচেষ্টা। এই চিকিৎসার কার্যকারিতা নিয়ে গবেষণা করেছেন অধ্যাপক বেলিন্ডা ওয়াইন্ডার। তাঁর বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ইংল্যান্ড ও ওয়েলসের যৌন অপরাধে দণ্ডিত প্রায় চারজনের একজনকে এই চিকিৎসা পদ্ধতির আওতায় আনা যেতে পারে, যার সংখ্যা আনুমানিক ৩৭৫০ জন।
সরকার এই ওষুধ ব্যবহারের সুযোগ আরও বিস্তৃত করতে আগ্রহী, যাতে বন্দীদের উপর অতিরিক্ত চাপ কমানো যায়। তবে, শিশু যৌন নির্যাতন বা ধর্ষণের মতো গুরুতর অপরাধের ক্ষেত্রে 'রাসায়নিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিচার' বাধ্যতামূলক করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া সত্ত্বেও, এই বিষয়ে মন্ত্রীদের মধ্যে নতুন করে আলোচনা চলছে। বর্তমানে ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে প্রায় পনেরো হাজার বন্দী যৌন অপরাধের সাজা ভোগ করছেন। এছাড়াও, অনলাইনে শিশু যৌন নিপীড়নের সন্দেহে প্রতি মাসে ৮৫০ জনেরও বেশি ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। এই পরীক্ষামূলক কর্মসূচির আওতায় বন্দীদের দেওয়া হচ্ছে দুটি প্রধান ওষুধ: প্রথমত, সারট্রালিন, যা অনাকাঙ্ক্ষিত ও বিকৃত চিন্তা দূর করতে সাহায্য করে।
দ্বিতীয়ত, অ্যান্টি-অ্যান্ড্রোজেন, যা টেস্টোস্টেরন হরমোনের উৎপাদন কমিয়ে যৌন আকাঙ্ক্ষাকে প্রায় নিবারণ করে দেয়—কিছু ক্ষেত্রে পুরুষ হরমোনের মাত্রা বয়ঃসন্ধির পূর্ববর্তী স্তরে নেমে আসে। অধ্যাপক ওয়াইন্ডার মনে করেন, যদি এই পরীক্ষামূলক পদক্ষেপ সফল হয়, তবে আগামী আঠাশ মাসের মধ্যে কারাগারগুলিতে এই চিকিৎসা পদ্ধতি পুরোপুরি চালু করা সম্ভব হতে পারে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, বন্দীদের নিয়মিত উন্নত চিকিৎসা এবং কাউন্সেলিং সেবা দেওয়া অপরিহার্য, যাতে তারা ওষুধ গ্রহণ করার পর পুনরায় কোনো যৌন অপরাধে না জড়ান। তিনি আরও বলেন, যৌন অপরাধীদের জন্য দেশব্যাপী একটি সফল সহায়তা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে পর্যাপ্ত বাজেট, দক্ষ চিকিৎসক এবং মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তার বিকল্প নেই।।
ক্যান্সারের পুনরাবৃত্তি রোধে টিকা ও ওষুধের যুগলবন্দী: এক বৈপ্লবিক অগ্রগতি