Published : 11 Jul 2026, 03:13 AM
ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে দুটি প্রধান দিক স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। একদিকে ইরান তার সামরিক সক্ষমতা প্রদর্শন করে নিজেদের শক্তি বাড়াতে চাইছে; অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের অপ্রতিদ্বন্দ্বী সামরিক পরাশক্তি হিসেবে তার অবস্থান ধরে রাখতে সচেষ্ট। আরব পারসপেক্টিভস ইনস্টিটিউটের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক জেইদন আলকিনানি এই পরিস্থিতিকে অত্যন্ত বিপজ্জনক বলে মনে করেন। আল-জাজিরাকে তিনি বলেন, ‘নিঃসন্দেহে এটি এক মারাত্মক পরিস্থিতি। সামরিক আক্রমণের মুখে কোনো চুক্তি বা পরিকল্পনা টিকে থাকতে পারে না, এই সত্য সবারই জানা।’ তিনি আরও যোগ করেন, ‘গত কয়েক সপ্তাহ বা মাস ধরে একটি আপাত শান্ত পরিবেশ বজায় ছিল। তবে আমরা এটাও অবগত যে এই সামরিক তৎপরতাগুলো আসলে একটি বৃহত্তর কৌশলের অংশ।
ভবিষ্যতে নতুন করে দর কষাকষির ক্ষেত্র তৈরি করার জন্যই এমন পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।’ বিশ্লেষক মনে করেন, ইরান ওই অঞ্চলের মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে ক্রমাগত হামলা চালাচ্ছে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র তার বৈশ্বিক সম্মান ও সামরিক শ্রেষ্ঠত্ব বজায় রাখতে চাইছে। আলকিনানি মনে করেন, ইরান এখন নিজেদের আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি করতে চাইছে এবং কিছু ক্ষেত্রে তারা আক্রমণাত্মক ভাবমূর্তি তুলে ধরার চেষ্টা করছে। হরমুজ প্রণালির ভবিষ্যৎ নিয়ে ভুল বোঝাবুঝি এবং কাল্পনিক ভবিষ্যতের সৃষ্টি এই পরিস্থিতির জন্ম দিয়েছে। আরব পারসপেক্টিভস ইনস্টিটিউটের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক জেইদন আলকিনানি আরও বলেন, উপসাগরীয় দেশগুলো এখন কূটনৈতিক পথে হাঁটছে। তারা চায়, কূটনীতির মাধ্যমেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের এই সংঘাত যত দ্রুত সম্ভব শেষ হোক।
আলকিনানি ভবিষ্যদ্বাণী করেন, দীর্ঘ মেয়াদে বিভিন্ন মতাদর্শের উত্থান দেখা যেতে পারে। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ সম্পর্ক কেমন হবে, তা নিয়ে দেশগুলো ভাবছে। আঞ্চলিক দৃষ্টিকোণ থেকে নতুন কোনো বহুজাতিক জোট গঠনের সম্ভাবনাও তাদের চিন্তার মধ্যে থাকতে পারে। এই ভাবনাগুলোর মধ্যে ইরান ও ইসরায়েলের সম্প্রসারণবাদ কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যায়, এবং যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরতা কমানোর উপায়গুলো কী হবে—এই বিষয়গুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে সংঘাতের অবসান ঘটাতে অন্য পক্ষগুলো হয়তো বর্তমান পরিস্থিতিই বজায় রাখতে চাইবে।।
নেতানিয়াহুর গোপন রোগ: প্রোস্টেট ক্যানসারের সাথে লড়াইয়ের অজানা কাহিনী