Published : 09 Jul 2026, 08:38 AM
দুই গোল ব্যবধানে এগিয়ে যাওয়ার পরেও শেষ পর্যন্ত তিন-দুই গোলে পরাজয়—এই ঘটনা হজম করা কঠিন। মিসর কোচ হোসাম হাসানেরও এই পরাজয় মেনে নিতে কষ্ট হচ্ছে। তবে তিনি মনে করছেন, এই হারের পিছনে ফিফা এবং রেফারিদের ভূমিকা রয়েছে। মিসরের সঙ্গে অন্যায় হয়েছে এবং আর্জেন্টিনা ও লিওনেল মেসিকে টুর্নামেন্টে টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করা হয়েছিল বলে অভিযোগ করেছেন কোচ। আটলান্টায় শেষ ষোলোর ম্যাচে ক্রিস্টিয়ান রোমেরো, মেসি এবং এনজো ফার্নান্দেজের গোলে জয় লাভ করে আর্জেন্টিনা। মিসর কোচের দাবি, ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্স রিভিশনে (ভিএআর) একটি গোল বাতিল করা হয়েছে। কিন্তু এনজোর জয়সূচক গোলের আগে আর্জেন্টিনার আলেক্সিস ম্যাক আলিস্টার ফাউল করলেও তা ভিএআরে ধরা পড়েনি। তাই হাসানের বক্তব্য, মাঠের ঘটনার পাশাপাশি মাঠের বাইরের কারণগুলোও তাদের পরাজয়ের জন্য দায়ী। টুর্নামেন্ট থেকে মিসরের বিদায়ের পর সংবাদ সম্মেলনে হাসান বলেন, ‘বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের চেয়ে আমরা অনেক ভালো খেলেছি। প্রায় সব দিক থেকেই আমরা এগিয়ে ছিলাম। কিন্তু মাঠের ভেতরের কিছু সিদ্ধান্ত এবং মাঠের বাইরের কিছু বিষয় ম্যাচের ফলাফলকে প্রভাবিত করেছে।
’ তিনি আরও যোগ করেন, ‘হয়তো তারা চেয়েছিল বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা টুর্নামেন্টে টিকে থাকুক। হয়তো তারা চেয়েছিল মেসি প্রতিযোগিতায় থাকুক।’ আর্জেন্টিনা সব দিক থেকেই সমর্থন পেয়েছে বলে হাসান অভিযোগ করেন, ফুটবলে খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্সের চেয়ে অনেক সময় বাইরের বিষয় বেশি প্রভাব ফেলে। আর্জেন্টিনা-মিসর ম্যাচে প্রধান রেফারি ছিলেন ফ্রান্সের ফ্রাঁসোয়া লেতেক্সিয়ে। হাসান জানান, রেফারি নিয়োগ নিয়ে তাঁর দলের আপত্তি ছিল। মিসর কোচের দাবি, ‘ফ্রান্স-আর্জেন্টিনার অতীতের কারণে আমরা রেফারি নির্বাচনের বিরোধিতা করেছিলাম। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আমাদেরই ভুগতে হয়েছে।’ মিসর কোচ আরও বলেন, ‘আমরা সম্মান বা ন্যায্য বিচার কিছুই পাইনি। মোহাম্মদ সালাহর ওপর হওয়া ফাউলের ঘটনায় সম্ভাব্য পেনাল্টি দেওয়া হয়নি, এমনকি ভিএআরেও দেখা হয়নি। আমাদের দ্বিতীয় গোলও অদ্ভুতভাবে বাতিল করা হয়েছে।’ আর্জেন্টাইন মিডফিল্ডার ম্যাক আলিস্টারের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে হাসান বলেন, ‘সবাই দেখেছে আমাদের খেলোয়াড়ের জার্সি টেনে ধরা হয়েছিল।
অথচ সেটিও ভিএআরে দেখা হয়নি। বাস্তব জীবন অন্যায্য হতে পারে, কিন্তু খেলাধুলায় কেন ন্যায্যতা থাকবে না?’ এই ম্যাচের ফল এবং যেভাবে সবকিছু ঘটেছে, তাতে আমি সন্তুষ্ট নই। বলতে চাই ‘দুর্ভাগ্য’, কিন্তু বাস্তবে আমাদের সঙ্গে অন্যায় করা হয়েছে।’ ম্যাচ শেষে রেফারি লেতেক্সিয়েরর সঙ্গে তাঁর তীব্র বাক-বিতণ্ডা হয়। এই প্রসঙ্গে হাসান বলেন, ‘আমি রেফারিকে বলেছি, ‘‘এটা অন্যায়।’’ আমি বলেছি, হয়তো তাঁর লুকানোর কিছু আছে। কেউ যদি কিছু লুকানোর চেষ্টা করে, অনেক সময় সেটি লুকিয়ে রাখতে পারে না।’ সবশেষে তিনি বলেন, ‘যাই হোক, আমার কাজ শেষ। এই টুর্নামেন্টের আর কোনো ম্যাচ আমি দেখব না।’।
সুপারকম্পিউটারের পূর্বাভাস: নকআউটের পর ফাইনালে কোন দুই দল এগিয়ে?