Published : 11 Mar 2026, 11:05 PM
বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক রেহমান সোবহান উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন, বর্তমানে অসংখ্য মানুষ রাজনৈতিক মতাদর্শের কারণে কারাগারের নিগ্রহ সহ্য করছে। এটি কেবল মানবাধিকারের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন নয়, বরং দেশের বিচার ব্যবস্থার দুর্বলতা এবং অন্তর্বর্তী সরকারের একটি বড় ব্যর্থতা। যাদের উচিত ছিল আইনের শাসনকে সুদৃঢ় করা, তারাই আজ নীরব। বুধবার বিকেলে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ, ২০২৫: নতুন সংসদের কাছে প্রত্যাশা’ শীর্ষক এক সংলাপে তিনি এই মন্তব্য করেন।
এসডিজি বাস্তবায়নে নাগরিক প্ল্যাটফর্মের উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে অধ্যাপক সোবহান বলেন, অতীতেও বিভিন্ন সরকার তাদের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে দমন করেছে। ক্ষমতার পালাবদলে সেই প্রতিপক্ষরাই আবার একই কাজ করেছে – আইন মেনে চলার পরিবর্তে মানবাধিকার লঙ্ঘনের পথে হেঁটেছে। সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) চেয়ারম্যান রেহমান সোবহান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের দিকে তাকিয়ে বলেন, বেআইনিভাবে আটক ব্যক্তিদের মানবাধিকার পুনরুদ্ধার এবং আইনের শাসনকে বাস্তবে রূপ দেওয়া এখন তার কাছে একটি অগ্নিপরীক্ষা। তিনি আশা প্রকাশ করেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে দৃষ্টান্ত স্থাপন করবেন।
অধ্যাপক সোবহান সংসদ সদস্যদের সামনে প্রশ্ন তুলে বলেন, ‘যারা নিজেদের মানবাধিকারের রক্ষক হিসেবে দাবি করছেন, তারা কতটা আন্তরিকভাবে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে পারবেন? আমাদের কি সত্যিই একটি স্বাধীন বিচার ব্যবস্থা থাকবে, নাকি এটি মানবাধিকার রক্ষার পরিবর্তে লঙ্ঘনের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হবে?’ জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশটি পাস হওয়ার ব্যাপারে আশাবাদী অধ্যাপক রেহমান সোবহান বলেন, ‘তবে এই কমিশন কতটা কার্যকর হবে, তা নির্ভর করছে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ পূর্বের মন্ত্রীদের মতো এটিকে উপেক্ষা করবেন কিনা তার ওপর।’।