Published : 24 Mar 2026, 05:08 PM
অস্ট্রেলিয়ায় অ্যাশেজ সিরিজে আশানুরূপ ফল না পাওয়া সত্ত্বেও ইংল্যান্ড ও ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ড (ইসিবি) কোচ ব্রেন্ডন ম্যাককালাম, অধিনায়ক বেন স্টোকস এবং ম্যানেজিং ডিরেক্টর রব কিকে স্বপদে বহাল রেখেছে। ইসিবি তাদের এই সিদ্ধান্তের কারণ ব্যাখ্যা করার পরেই অস্ট্রেলিয়ার দুই কিংবদন্তি ক্রিকেটার অ্যাডাম গিলক্রিস্ট ও মার্ক ওয়াহ ইংল্যান্ডের কোচ ও অধিনায়ককে একটি স্পষ্ট সতর্কবার্তা দিয়েছেন। গিলক্রিস্ট মনে করেন, ইংল্যান্ডের মাটিতে পরবর্তী অ্যাশেজ সিরিজ অনুষ্ঠিত হতে আর বেশি দেরি নেই – মাত্র ১৪-১৫ মাস। তাই হয়তো খুব অল্প সময়ের মধ্যে সবকিছু পরিবর্তন করে নতুন করে শুরু করার ঝুঁকি নিতে চাননি ইসিবি। ফক্স স্পোর্টসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে গিলক্রিস্ট বলেছেন, ‘পরের অ্যাশেজ শুরু হতে আর বেশি সময় নেই। সম্ভবত, খুব কম সময়ের মধ্যে বড় কোনো পরিবর্তন আনার সুযোগ নেই।’ তিনি আরও মনে করেন, সম্প্রতি টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের সেমিফাইনালে পৌঁছানো এই সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করেছে। তবে গিলক্রিস্টের সতর্কবার্তা স্পষ্ট – দলের ভেতরের সমস্যাগুলো এড়িয়ে যাওয়া যাবে না। অলরাউন্ডার লিয়াম লিভিংস্টোন সম্প্রতি অভিযোগ করেছেন যে কোচিং স্টাফের সঙ্গে যোগাযোগের বড় ঘাটতি রয়েছে এবং তিনি কোচদের কাছ থেকে তেমন কোনো গঠনমূলক মতামত পাননি। আরও পড়ুন ‘ডেড ম্যান’ থেকে যেভাবে বেঁচে গেলেন ম্যাককালাম। ২২ মার্চ ২০২৬। গিলক্রিস্ট বলেন, ‘অবশ্যই কিছু পরিবর্তন দরকার।
পুরো সিরিজজুড়ে দলের মধ্যে যে শৃঙ্খলা ও সমন্বয়ের অভাব ছিল, সেটি তাদের সেরা ক্রিকেট খেলতে বাধা দিয়েছে। যদিও বাইরে থেকে শোনা যাচ্ছিল যে “সবকিছু ঠিক আছে, ড্রেসিংরুমে সবাই খুশি”, লিভিংস্টোনের মন্তব্যে ভেতরের আসল চিত্র বেরিয়ে পড়েছে। তবে তারা টিকে গেছেন। এখন দেখার বিষয়, তারা নিজেদের পরিবর্তন করতে পারে কিনা।’ মার্ক ওয়াহ মনে করেন, এই সিদ্ধান্তটি ‘ফিফটি-ফিফটি’ ছিল। ম্যাককালাম-স্টোকস জুটি দায়িত্ব নেওয়ার পর শুরুটা ভালো হয়েছিল, ইতিবাচক মনোভাব নিয়ে তারা বেশ কিছু ম্যাচ জিতেছিলেন। কিন্তু শীর্ষ দলগুলোর বিপক্ষে বড় পরীক্ষায় তারা বারবার ব্যর্থ হয়েছেন। ২০২৪ সালে ভারতে এবং ২০২৫-২৬ মৌসুমে অস্ট্রেলিয়ায় তাদের ‘বাজবল’ দর্শন মুখ থুবড়ে পড়েছে। আরও পড়ুন অস্ট্রেলিয়ায় জিততে চাইলে ইংল্যান্ডকে রবি শাস্ত্রীকে কোচ বানানোর পরামর্শ। ২৪ ডিসেম্বর ২০২৫। ওয়াহ বলেছেন, ‘কোনো সন্দেহ নেই, তাদের খেলার ধরনে পরিবর্তন আনতে হবে। ম্যাককালাম ও স্টোকস বোকা নন।
তারা নিশ্চয়ই বুঝতে পারছেন অস্ট্রেলিয়া সফরে কোথায় ভুল হয়েছে। তাদের ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ আছে।’ তবে এই অস্ট্রেলীয় কিংবদন্তি একই ধরনের ক্রিকেটে আটকে থাকার বিপদও তুলে ধরেন। ‘ক্রিকেটের মৌলিক বিষয়গুলোর প্রতি মনোযোগ রেখে জেতার চেষ্টা করা ভালো। কিন্তু শুধু একটি পরিকল্পনা নিয়ে খেললে, বিশেষ করে শক্তিশালী দলের বিপক্ষে, জেতা ম্যাচও হাতছাড়া হয়ে যেতে পারে। তারা যদি শিক্ষা নিতে পারে, তাহলে ভালো। না হলে, আগামী ১২ মাসেও একই ফল দেখতে হবে।’ শিক্ষাটা নেওয়া না নেওয়ার প্রমাণ পাওয়া যাবে ইংল্যান্ডের মাঠেই—পরের অ্যাশেজ সিরিজে। আরও পড়ুন ‘গর্ত খোঁড়া’ ম্যাককালাম থাকতে চাইলেও তাঁর বিদায় চান বয়কট। ২২ ডিসেম্বর ২০২৫।।