Published : 04 Jul 2026, 11:27 PM
সরকার দেশের অর্থনীতিকে নতুন দিশা দিতে এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের প্রসার ঘটাতে দুটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছে। এই পদক্ষেপের অধীনে কক্সবাজারের মাতারবাড়ী সমুদ্রবন্দর সংলগ্ন এলাকায় এবং চট্টগ্রাম বন্দরের কাছাকাছি অঞ্চলে দেশের প্রথম দুটি মুক্তবাণিজ্য অঞ্চল (ফ্রি ট্রেড জোন) প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি এই প্রস্তাব অনুমোদন করেছে। বুধবার অর্থমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভা বৈঠকে এই অনুমোদন দেওয়া হয়। মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি সাংবাদিকদের জানান, এই অঞ্চলের লক্ষ্য হলো দেশের অর্থনীতিতে গতি আনা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সম্প্রসারণ করা, বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং বন্দরভিত্তিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে আরও শক্তিশালী করা। এই দুটি অঞ্চলে মোট প্রায় ৬০০ একর জমিতে এই মুক্তবাণিজ্য অঞ্চলগুলো গড়ে উঠবে। বর্তমানে প্রকল্পটি ধারণাগত পর্যায়ে থাকলেও, পরবর্তী ধাপে এর বিস্তারিত পরিকল্পনা, বিনিয়োগ কাঠামো এবং পরিচালন পদ্ধতি চূড়ান্ত করা হবে।
মুক্তবাণিজ্য অঞ্চলের মূল বৈশিষ্ট্য হলো, এখানে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে কাস্টমস ও কর সংক্রান্ত অনেক বিধিনিষেধ শিথিল থাকে, যা বিদেশি ব্যবসায়ীদের জন্য বাণিজ্য পরিচালনাকে অনেক সহজ করে তোলে। ফলে বিদেশি ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীরা সহজে পণ্য লেনদেন করতে পারবেন। এই অঞ্চলগুলোতে বিদেশি জাহাজগুলো পণ্য খালাস, বিক্রি বা পুনঃরপ্তানির সুযোগ পাবে, এবং বাংলাদেশি উদ্যোক্তারাও আন্তর্জাতিক বাজারে সহজে পণ্য সরবরাহ করতে সক্ষম হবেন। মন্ত্রিপরিষদ সচিব আরও বলেন, এই উদ্যোগ জিডিপি-তে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে, বন্দরের ব্যবহার বৃদ্ধি পাবে, জাহাজ চলাচল বাড়বে এবং পণ্য ও সেবার দ্রুত স্থানান্তরে সহায়তা করবে। এর ফলে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং আন্তর্জাতিক মানের পণ্য ও সেবা সহজলভ্য হবে। প্রতিযোগিতা বৃদ্ধির কারণে পণ্যের দামও হ্রাস পেতে পারে। দুবাইয়ের উদাহরণ দিয়ে নাসিমুল গনি উল্লেখ করেন যে, সীমিত প্রাকৃতিক সম্পদের মধ্যেও দুবাই মুক্ত অর্থনৈতিক অঞ্চল ও বাণিজ্যিক সুবিধার মাধ্যমে বিপুল বিনিয়োগ আকর্ষণ করেছে এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।
বাংলাদেশও একই ধরনের পরিবেশ তৈরির চেষ্টা করছে। এছাড়াও, চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলায় চীনা অর্থনৈতিক ও শিল্পাঞ্চল (সিইআইজেড) স্থাপনের জন্য বিশেষ কোম্পানি গঠন এবং ভূমি ইজারা চুক্তির নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হবে। বিদেশি বিনিয়োগকারীরা সাধারণত নিজেদের ব্যবসায়িক নেটওয়ার্কের মধ্যে থাকতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন এবং সাংস্কৃতিক নৈকট্যও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এই সমন্বিত শিল্পাঞ্চল গড়ে উঠলে চীনা বিনিয়োগকারীদের জন্য বাংলাদেশে বিনিয়োগ করা আরও সহজ হবে বলে আশা করা যায়।।