Published : 28 Feb 2026, 09:07 AM
নতুন সরকার গঠনের পরপরই কৃষকদের জন্য এক যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রায় ১২ লক্ষ প্রান্তিক কৃষকের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ সুদসহ মওকুফ করা হয়েছে, যা গ্রামীণ অর্থনীতিতে প্রাণের সঞ্চার করবে। এই পদক্ষেপ কেবল একটি নির্বাচনী ওয়াদা নয়, বরং কৃষকদের জীবনমান উন্নয়নে সরকারের দৃঢ় অঙ্গীকারের প্রমাণ। ১ হাজার ৫৫০ কোটি টাকার এই ঋণমুক্তির ঘোষণায় দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়েছে। নির্বাচনের সময় বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান এই বিষয়ে ঘোষণা দিয়েছিলেন এবং সরকার গঠনের পরেই তা বাস্তবায়িত হলো। আমাদের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি হলো শস্য, মৎস্য ও পশুপালন খাতের ক্ষুদ্র চাষিরা। কিন্তু প্রায়শই তারা মহাজনি ঋণের শোষণে জর্জরিত হন অথবা ব্যাংকের কিস্তির চাপে দিশেহারা হয়ে পড়েন। এই ঋণ মওকুফ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কৃষকদের দীর্ঘদিনের জমানো ঋণের বোঝা অনেকটা কমল, যা তাদের ‘ক্রেডিট স্কোর’ উন্নত করবে এবং ভবিষ্যতে বৈধ পথে ঋণ পেতে সাহায্য করবে।
এর ফলে তারা স্থানীয় শোষক মহাজনদের হাত থেকে মুক্তি পাবে। কিস্তির টাকা সাশ্রয় হওয়ায় কৃষকরা উন্নত বীজ, সার বা আধুনিক সেচ প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ করতে পারবেন, যা সামগ্রিকভাবে দেশের কৃষি উৎপাদন বাড়াতে সহায়ক হবে। এই সিদ্ধান্তের একটি মানবিক দিকও রয়েছে। প্রান্তিক পরিবারগুলো ঋণের দায় থেকে মুক্তি পাওয়ায় তাদের সন্তানদের শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাতে অর্থ ব্যয় করতে পারবে। বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারে বৈষম্যহীন আর্থসামাজিক উন্নয়নের যে প্রতিশ্রুতি ছিল, এটি তারই বাস্তব রূপ। এছাড়াও, ১০ মার্চ থেকে পরীক্ষামূলকভাবে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালু করার ঘোষণা গ্রামীণ দারিদ্র্য বিমোচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা যায়। তবে, যেকোনো ঋণ মওকুফ কর্মসূচির কিছু দীর্ঘমেয়াদী চ্যালেঞ্জ থাকে। অর্থনীতিবিদরা মনে করেন, ভবিষ্যতে নিয়মিত ঋণ পরিশোধের সংস্কৃতি যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।
যারা নিয়মিত ঋণ পরিশোধ করেন, তাদের জন্য কোনো প্রণোদনা রাখা যায় কিনা, তা বিবেচনা করা উচিত। শুধু ঋণ মওকুফই যথেষ্ট নয়, কৃষকের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করা, মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কমানো এবং শস্যবিমা চালুর মতো কাঠামোগত সংস্কারগুলোও জরুরি। ১৯৯১ সালেও সরকার ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ মওকুফ করে কৃষকদের পাশে দাঁড়িয়েছিল। সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে সেই অঙ্ক এবার ১০ হাজারে উন্নীত করা হয়েছে। সরকারি ব্যাংকের পাশাপাশি বেসরকারি ব্যাংকের গ্রাহকেরাও এই সুবিধার আওতায় আসবেন, যা এর পরিধি আরও বাড়াবে। আমরা আশা করি, এই পদক্ষেপের সুফল প্রকৃত প্রান্তিক কৃষকদের কাছে স্বচ্ছতার সাথে পৌঁছাবে। সরকারের এই জনবান্ধব উদ্যোগ সফল হলে তা কেবল কৃষি খাত নয়, বরং পুরো জাতীয় অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক ফল বয়ে আনবে।।
বাংলাদেশের অর্থনীতিতে এডিবি’র বিশাল সহায়তা: ১৭ হাজার কোটি টাকার ঋণ অনুমোদন