Published : 15 Apr 2026, 07:08 AM
ইরানের পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হলে বিশ্বজুড়ে অর্থনৈতিক মন্দা দেখা দিতে পারে বলে সতর্ক করেছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। সংস্থাটি জানিয়েছে, এই মন্দার কারণে জি-৭ দেশগুলোর মধ্যে যুক্তরাজ্য সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। সম্প্রতি প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে ওয়াশিংটনভিত্তিক এই সংস্থাটি জানায়, মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতার কারণে বিশ্ব অর্থনীতির ওপর নেতিবাচক প্রভাব বাড়ছে। পরিস্থিতি বিবেচনা করে আইএমএফ ২০২৬ সালের জন্য বিশ্ব প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস কমিয়ে দিয়েছে। আইএমএফের হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, জ্বালানির দাম যদি ২০২৬ সালের মাঝামাঝি পর্যন্ত আকাশচুম্বী থাকে, তাহলে জি-৭ দেশগুলোর মধ্যে যুক্তরাজ্যের প্রবৃদ্ধির হার সবচেয়ে বেশি কমবে এবং মূল্যস্ফীতি বাড়বে। তবে, যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে এবং জ্বালানির দাম স্থিতিশীল না থাকলে বিশ্ব অর্থনীতি ১৯৮০ সালের পর পঞ্চমবারের মতো বড় মন্দার সম্মুখীন হতে পারে। আইএমএফের এই সতর্কবার্তার পর ব্রিটিশ চ্যান্সেলর র্যাচেল রিভস মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমালোচনা করেছেন। ওয়াশিংটন যাওয়ার আগে তিনি বলেন, ‘ইরানের সংঘাত আমাদের নয়, কিন্তু এর ফলস্বরূপ যুক্তরাজ্যকে বড় মূল্য দিতে হচ্ছে।
আমি এটা চাইনি, কিন্তু এখন আমাদের এর মোকাবিলা করতে হবে।’ ‘দ্য মিরর’কে র্যাচেল রিভস সরাসরি ট্রাম্পকে দায়ী করে বলেন, ‘কোনো সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা ছাড়া সংঘাতের পথে পা বাড়ানো বোকামি। যুক্তরাষ্ট্র কোনো ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ছাড়াই কেন এই যুদ্ধে জড়ালো, তা ভেবে আমি হতাশ ও ক্ষুব্ধ।’ আইএমএফ জানিয়েছে, বিশ্বজুড়ে প্রবৃদ্ধি কমলেও জ্বালানি আমদানিকারক ও উন্নয়নশীল দেশগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। মধ্যপ্রাচ্যে ওয়াশিংটনের উদ্দেশ্য নিয়ে ট্রাম্পের পরস্পরবিরোধী বক্তব্যের মধ্যেই সংস্থাটি ২০২৬ সালের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস ০.১ শতাংশ কমিয়ে ২.৩ শতাংশে নামিয়েছে। যুক্তরাজ্যের জন্য এই পূর্বাভাস আরও উদ্বেগজনক। দেশটির প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ০.৫ শতাংশ কমিয়ে ০.৮ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। একইসঙ্গে মূল্যস্ফীতি সরকারি লক্ষ্যমাত্রা ২ শতাংশের দ্বিগুণ, অর্থাৎ ৪ শতাংশে পৌঁছাতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে।
আইএমএফের প্রধান অর্থনীতিবিদ পিয়ের-অলিভিয়ের গৌরিনকাস সতর্ক করে বলেন, পরিস্থিতি প্রতিদিন খারাপ হচ্ছে এবং বিশ্ব অর্থনীতি একটি নেতিবাচক পরিণতির দিকে যাচ্ছে। যদি তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১১০ ডলার ছাড়িয়ে ২০২৭ সাল পর্যন্ত স্থায়ী হয়, তবে বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি ২ শতাংশে নেমে আসবে—যা বিশ্বমন্দার সমতুল্য। ১৯৮০ সালের পর এমন পরিস্থিতি কেবল চারবার দেখা গেছে, যার মধ্যে ২০২০ সালের করোনা মহামারি ও ২০০৮ সালের আর্থিক মন্দা উল্লেখযোগ্য। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য আইএমএফ কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়ার পাশাপাশি যুদ্ধ বন্ধের ওপর জোর দিয়েছে। গৌরিনকাস বলেন, ঢালাও ভর্তুকি বা দাম বেঁধে দেওয়ার মতো পদক্ষেপ প্রায়ই ফলপ্রসূ হয় না এবং ব্যয়বহুল প্রমাণিত হয়। এর পরিবর্তে, সুনির্দিষ্ট ও অস্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।।
ইরানের সাথে চুক্তি প্রায় সম্পন্ন, হরমুজ প্রণালী খুলছে: ট্রাম্পের ঘোষণা