Published : 02 Apr 2026, 07:07 AM
ইরান থেকে খুব শীঘ্রই নিজেদের সৈন্য সরিয়ে নেবে যুক্তরাষ্ট্র। তবে, বিশেষ পরিস্থিতিতে নির্দিষ্ট কিছু লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার জন্য তারা আবারও ফিরে আসতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বুধবার জাতির উদ্দেশ্যে দেওয়া ভাষণের আগে বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে এমন ইঙ্গিত দিয়েছেন। ইরান যুদ্ধ এখন পঞ্চম সপ্তাহে চলছে। ক্রমাগত জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই যুদ্ধ থেকে বেরিয়ে আসার পথ খুঁজছেন। যুক্তরাষ্ট্রের পূর্বাঞ্চলীয় সময় বুধবার রাত ৯টায় তিনি এ বিষয়ে বিস্তারিত জানাবেন। রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প জানান, তাঁর ভাষণের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হবে ন্যাটোর প্রতি তাঁর ক্ষোভ প্রকাশ করা। তাঁর মতে, ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশ্য পূরণে এই জোট পর্যাপ্ত সহযোগিতা করেনি। ন্যাটো থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে সরিয়ে নেওয়ার বিষয়টি তিনি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছেন।
১৯৪৯ সালে মার্কিন সিনেটে এই জোট অনুমোদিত হয়েছিল। ট্রাম্প বলেন, ‘যখন আমাদের প্রয়োজন ছিল, তখন তারা বন্ধুর মতো আচরণ করেনি। আমরা তাদের কাছে খুব বেশি কিছু চাইনি...সব সময় একতরফা সুযোগ-সুবিধা দিতে হয়েছে।’ কখন ইরান যুদ্ধ শেষ হবে—এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘আমি নির্দিষ্ট করে কিছু বলতে পারছি না...আমরা খুব দ্রুতই সরে যাব।’ তিনি জোর দিয়ে বলেন, ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির কোনো সুযোগ নেই। ‘আমাদের অভিযানের কারণে ইরান এখন পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে অক্ষম। এরপর আমি চলে যাব এবং আমার সঙ্গে সবাইকে নিয়ে যাব। তবে, যদি দরকার হয়, আমরা আবার ফিরে আসব এবং “স্পট হিট” বা সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করব।’ ইরান বরাবরই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির অভিপ্রায় অস্বীকার করে আসছে এবং দাবি করছে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ।
ট্রাম্প আরও জানান, ইরান যুদ্ধের খরচ আরব দেশগুলোর ওপর চাপানোর চেষ্টা করছেন তিনি। ৩১ মার্চ ২০২৬-এ বিমান হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর ইরানের নতুন নেতৃত্বের সঙ্গে একটি চুক্তির বিষয়েও তিনি আশাবাদী। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘আমরা সরকার পরিবর্তনে সক্ষম হয়েছি। আমার মনে হয়, একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর ভালো সম্ভাবনা রয়েছে, কারণ তারা আর কোনো ধ্বংসলীলা চায় না।’ তিনি যোগ করেন, ‘আমাদের সরকার পরিবর্তনের প্রয়োজন ছিল না, কিন্তু যুদ্ধের কারণে আমরা তা পেয়েছি। বড় কথা হলো, তারা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে পারবে না, এবং এখন তারা সেটি আর চায়ও না।’ ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের বিষয়ে ট্রাম্প বলেন, ‘সেগুলো মাটির অনেক গভীরে রয়েছে, আমি ওসব নিয়ে মাথা ঘামাই না।’ তবে, তিনি বলেন, ‘আমরা স্যাটেলাইটের মাধ্যমে সবসময় সেটির ওপর নজর রাখব।’।
ইরানের সাথে চুক্তি প্রায় সম্পন্ন, হরমুজ প্রণালী খুলছে: ট্রাম্পের ঘোষণা