Published : 24 May 2026, 06:25 PM
যুক্তরাষ্ট্রে অস্থায়ী ভিসায় বসবাস করা বিদেশিদের গ্রিন কার্ড বা স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতি পাওয়ার জন্য এখন নিজ দেশে ফিরে যেতে হবে। ট্রাম্প প্রশাসন এই নতুন নীতি ঘোষণা করেছে, যার উদ্দেশ্য হলো বিদ্যমান অভিবাসন প্রক্রিয়াকে আরও সুসংহত করা। হোয়াইট হাউসের দাবি, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে গ্রিন কার্ডের আবেদন প্রক্রিয়াটি একটি নির্দিষ্ট আইনি কাঠামোর মধ্যে সম্পন্ন করা যাবে। এতদিন ধরে অভিবাসন প্রক্রিয়ার কিছু দুর্বল দিক বা 'ফাঁকফোকর' ব্যবহার করে অনেকে যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী হওয়ার চেষ্টা করতেন, যা এখন বন্ধ করা হবে। যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ সামাজিক মাধ্যমে জানিয়েছে, যদি কোনো বিদেশি নাগরিক গ্রিন কার্ড পেতে চান, তবে তাকে অবশ্যই আবেদন করার জন্য নিজ দেশে ফিরে যেতে হবে। এই নীতি অভিবাসন ব্যবস্থাকে আইনের মূল লক্ষ্যের দিকে পরিচালিত করবে এবং যেকোনো ধরনের কারচুপি রোধ করবে। ইউএস সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস (ইউএসসিআইএস) জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে থেকে স্ট্যাটাস পরিবর্তন করে স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতি পাওয়া কোনো স্বয়ংক্রিয় অধিকার নয়।
এটি একটি বিশেষ বিবেচনার বিষয়। সংস্থাটি আরও জানায়, সাময়িক ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরে বিদেশিদের নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার প্রত্যাশা করা হয়, এবং এই নীতির মাধ্যমে অভিবাসন ব্যবস্থার সেই মৌলিক ধারণাটিই বজায় রাখা হবে। তবে, প্রতিটি আবেদন আলাদাভাবে মূল্যায়ন করা হবে। কর্মকর্তারা দেখবেন আবেদনকারী ভিসার শর্ত লঙ্ঘন করেছেন কিনা, অনুমোদিত সময়ের বেশি যুক্তরাষ্ট্রে ছিলেন কিনা, অবৈধভাবে কাজ করেছেন কিনা, অথবা কোনো ধরনের জালিয়াতির সাথে জড়িত ছিলেন কিনা। ইউএসসিআইএস জানায়, কিছু বিশেষ ক্ষেত্রে, যেমন ‘ডুয়েল ইনটেন্ট’ ভিসার ক্ষেত্রে, অস্থায়ী ভিসাধারীরা গ্রিন কার্ডের আবেদন করার সময় যুক্তরাষ্ট্রে থাকতে পারবেন। তবে, এটি গ্রিন কার্ড পাওয়ার নিশ্চয়তা দেয় না। অভিবাসনপ্রত্যাশীদের অধিকার রক্ষায় কাজ করা বিভিন্ন সংগঠন এই সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছে।
‘হিয়াস’ নামের একটি অলাভজনক সংস্থা সতর্ক করে বলেছে, এই নীতির কারণে মানব পাচারের শিকার ব্যক্তি এবং নির্যাতিত শিশুরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে, কারণ তাদের স্থায়ীভাবে বসবাসের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য অনিরাপদ পরিস্থিতিতে ফিরে যেতে বাধ্য করা হবে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অভিবাসন নিয়ম কঠোর করার ধারাবাহিকতায় এই পদক্ষেপ নিয়েছেন। এর আগে, তিনি শিক্ষার্থী, সাংস্কৃতিক বিনিময় কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারী এবং গণমাধ্যমকর্মীদের ভিসার মেয়াদ কমিয়ে এনেছিলেন। এছাড়া, গত জানুয়ারি মাসে ট্রাম্প পুনরায় দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে স্টেট ডিপার্টমেন্ট ১ লাখেরও বেশি মার্কিন ভিসা বাতিল করেছে।।
গ্রিন কার্ডের স্বপ্নে বিভোরদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নিয়ম: নিজ দেশে ফেরা বাধ্যতামূলক!