Published : 27 Mar 2026, 11:05 PM
কক্সবাজারের চকরিয়ায় এক মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। দুর্বৃত্তরা একটি বন্য হাতিকে হত্যা করে মাটি চাপা দিয়েছিল, যা প্রায় এক মাস পর উৎকট দুর্গন্ধের মাধ্যমে প্রকাশ পায়। বন বিভাগের কর্মকর্তারা দুর্গন্ধ অনুসরণ করে হাতির কঙ্কাল ও দেহাবশেষ উদ্ধার করেছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার উপজেলার কাকারা ইউনিয়নের মুসলিমনগর এলাকার পাহাড়ি অঞ্চলে এই লোমহর্ষক ঘটনাটি জনসমক্ষে আসে। স্থানীয় সূত্র ও বনকর্মীদের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রায় এক মাস আগে কাকারার মুসলিম নগর সংলগ্ন পাহাড়ি এলাকায় হাতিটিকে হত্যা করা হয়।
এরপর বনের ভেতরে মাটি চাপা দিয়ে একটি ছোট ঘর তৈরি করে দেওয়া হয়, যাতে কেউ সন্দেহ না করে। গতকাল সকালে নলবিলা বিটের বনকর্মীরা টহল দেওয়ার সময় তীব্র গন্ধ পান এবং উৎস খুঁজতে গিয়ে রহস্যময় ঘরটি আবিষ্কার করেন। ঘরটি ভেঙে ফেলার পর মাটিচাপা দেওয়া হাতির কঙ্কাল ও দেহাবশেষ বেরিয়ে আসে। ডুলাহাজারা সাফারি পার্কের পশুচিকিৎসক ঘটনাস্থলে এসে মৃত হাতির ময়নাতদন্ত করেন এবং প্রয়োজনীয় নমুনা সংগ্রহ করেন। এসময় ফাঁসিয়াখালী রেঞ্জ কর্মকর্তা, চকরিয়া থানা পুলিশ এবং লামা উপজেলার ফাইতং পুলিশ ফাঁড়ির টহল দল উপস্থিত ছিলেন।
প্রাথমিক তদন্তে ফাঁসিয়াখালী রেঞ্জ কর্মকর্তা সাদেকুর রহমান জানান, হাতিটিকে পরিকল্পিতভাবে গুলি অথবা শক্তিশালী বৈদ্যুতিক শক দিয়ে হত্যা করা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, পাহাড়ের ঢালে আবাদি জমিতে ফসল নষ্ট করার কারণে ক্ষুব্ধ হয়ে দুর্বৃত্তরা এই নৃশংস কাজ করেছে। তিনি আরও জানান, বন্যপ্রাণী নিধন আইনে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং অজ্ঞাতনামা হত্যাকারীদের বিরুদ্ধে থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে। খুব শীঘ্রই অপরাধীদের শনাক্ত করে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।।