Published : 24 May 2026, 07:00 PM
যুক্তরাষ্ট্রে অস্থায়ী ভিসায় বসবাস করা কোনো বিদেশি নাগরিক যদি স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতি বা গ্রিন কার্ড পেতে চান, তবে তাকে এখন নিজ দেশে ফিরে যেতে হবে—এমন একটি নতুন নীতি ঘোষণা করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, বিদ্যমান অভিবাসন প্রক্রিয়াকে আরও সুসংহত করাই এই পদক্ষেপের মূল উদ্দেশ্য। কর্মকর্তারা বলছেন, গ্রিন কার্ডের আবেদনগুলো যেন যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে সম্পন্ন হয়, তা নিশ্চিত করাই এই নীতির লক্ষ্য। এর ফলে, কেউ আর যুক্তরাষ্ট্রে থেকে স্থায়ীভাবে বসবাসের আবেদন করে ‘আইনি ফাঁকফোকর’ দিয়ে সুবিধা নিতে পারবে না। যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি সামাজিক মাধ্যম ‘এক্স’-এ (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে জানায়, “যদি কোনো বিদেশি নাগরিক যুক্তরাষ্ট্রে অস্থায়ীভাবে থেকে গ্রিন কার্ড পেতে চান, তবে তাকে আবেদন করার জন্য নিজ দেশে ফিরে যেতে হবে। এই নীতি আমাদের অভিবাসন ব্যবস্থাকে আইনের পথে পরিচালিত করবে এবং সব ধরনের দুর্বলতা দূর করবে।” ইউএস সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস (ইউএসসিআইএস) শুক্রবার এক নির্দেশিকায় জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরে থেকে স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতি পাওয়া কোনো ‘স্বয়ংক্রিয় অধিকার’ নয়, বরং এটি একটি ‘বিবেচনাধীন সুবিধা’।
সংস্থাটি আরও জানায়, সাময়িক ভিসাধারীদের ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার সাথে সাথেই দেশ ত্যাগ করার প্রত্যাশা করা হয়—এভাবেই অভিবাসন ব্যবস্থাটি তৈরি করা হয়েছে। তবে, অভিবাসন কর্মকর্তারা প্রতিটি আবেদন আলাদাভাবে মূল্যায়ন করবেন। এক্ষেত্রে, আবেদনকারীর ভিসা বিধি লঙ্ঘন, অনুমোদিত সময়ের চেয়ে বেশি থাকা, অবৈধভাবে কাজ করা, জালিয়াতি এবং যুক্তরাষ্ট্রের নিয়মকানুন মেনে চলা ইত্যাদি বিষয়গুলো খতিয়ে দেখা হবে। ইউএসসিআইএস জানায়, ‘ডুয়েল ইনটেন্ট’ বা দ্বৈত উদ্দেশ্যের মতো কিছু বিশেষ ক্ষেত্রে সীমিত ব্যতিক্রম থাকতে পারে, যেখানে অস্থায়ী ভিসাধারীরা স্থায়ীভাবে বসবাসের আবেদন করার সময়ও যুক্তরাষ্ট্রে থাকার অনুমতি পেতে পারেন। তবে, এই ধরনের ব্যতিক্রম গ্রিন কার্ড পাওয়ার নিশ্চয়তা দেয় না। অভিবাসনপ্রত্যাশীদের অধিকার রক্ষায় কাজ করা বিভিন্ন সংগঠন এই সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছে। শরণার্থী ও অভিবাসীদের সহায়তাকারী অলাভজনক সংস্থা ‘হিয়াস’ সতর্ক করে বলেছে, এই নীতির কারণে মানব পাচারের শিকার ব্যক্তি এবং নির্যাতিত ও অসহায় শিশুরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
কারণ, স্থায়ীভাবে বসবাসের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য তাদের অনিরাপদ ও ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতিতে ফিরে যেতে বাধ্য করা হবে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অভিবাসন নিয়ম কঠোর করার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি বসবাসের সুযোগ সীমিত করার জন্য ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছেন। এর আগে, গত বছর ট্রাম্প প্রশাসন শিক্ষার্থী, সাংস্কৃতিক বিনিময় কর্মসূচি এবং গণমাধ্যম কর্মীদের ভিসার মেয়াদ কমিয়ে দিয়েছিল। এছাড়া, গত জানুয়ারিতে ট্রাম্প পুনরায় দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে স্টেট ডিপার্টমেন্ট এ পর্যন্ত ১ লাখেরও বেশি মার্কিন ভিসা বাতিল করেছে।।
রামিসার কান্না থামাবে সরকার, এক মাসের মধ্যে বিচার সম্পন্ন হবে: প্রধানমন্ত্রী