Published : 23 Apr 2026, 11:05 AM
ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) একটি সহযোগী গণমাধ্যম সম্প্রতি পারস্য উপসাগরের তলদেশের ইন্টারনেট কেবল এবং ক্লাউড অবকাঠামোর একটি বিস্তারিত মানচিত্র প্রকাশ করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, এটি উপসাগরীয় অঞ্চলের ডিজিটাল যোগাযোগ ব্যবস্থার ওপর একটি সুপ্ত হুমকি। গতকাল বুধবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে তাসনিম নিউজ এজেন্সি হরমুজ প্রণালীকে কেবল তেল ও গ্যাসের পথ নয়, বরং সাবমেরিন তারের একটি গুরুত্বপূর্ণ করিডর হিসেবে চিহ্নিত করেছে। সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, বাহরাইন, কুয়েত ও সৌদি আরবের মতো দেশগুলোর ইন্টারনেট সংযোগের প্রধান তারগুলো এই পথ দিয়ে গেছে। তাসনিম দাবি করেছে, পারস্য উপসাগরের দক্ষিণের দেশগুলো ইন্টারনেটের জন্য ইরানের চেয়ে অনেক বেশি সমুদ্র পথের ওপর নির্ভরশীল।
এই পরিস্থিতিতে, বিশ্লেষকরা মনে করছেন, তাসনিমের এই প্রতিবেদন নিছক কারিগরি তথ্য নয়। এটি বরং ওই অঞ্চলের কেবল, ল্যান্ডিং স্টেশন ও ডেটা সেন্টারগুলোকে সংঘাতের কৌশলগত লক্ষ্য হিসেবে চিহ্নিত করার একটি সুস্পষ্ট ইঙ্গিত। বিশেষ করে, আরব আমিরাত ও বাহরাইনে অবস্থিত ক্লাউড ও ডেটা সেন্টারগুলোর দিকে ইঙ্গিত করে ইরান বুঝিয়ে দিয়েছে, এই স্থাপনাগুলোতে কোনো বিপর্যয় ঘটলে অর্থনৈতিক ও যোগাযোগ ক্ষেত্রে মারাত্মক প্রভাব পড়তে পারে। Port, জাহাজ চলাচল এবং জ্বালানি স্থাপনার পাশাপাশি, সাবমেরিন কেবল এবং আঞ্চলিক ডেটা সেন্টারগুলোও এখন ইরানের লক্ষ্যবস্তুর তালিকায় যুক্ত হয়েছে—এমনটাই ইঙ্গিত দিচ্ছে তাসনিমের প্রতিবেদন। এই সতর্কবার্তা এমন এক সময়ে এল, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্র ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের উত্তেজনা বাড়ছে এবং ডিজিটাল অবকাঠামোর ওপর হামলার ঘটনা ঘটছে।
সাম্প্রতিক কিছু প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, আরব আমিরাত ও বাহরাইনে আমাজন ওয়েব সার্ভিসের স্থাপনায় ইরানের ড্রোন হামলা হয়েছে। এর ফলে বাণিজ্যিক ক্লাউড অবকাঠামোর নিরাপত্তা ঝুঁকিগুলো স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। তাসনিমের এই প্রকাশনার মাধ্যমে বোঝা যায়, ইরান এখন কেবল সমুদ্রপথেই নয়, বরং তথ্য প্রবাহের লাইফলাইনগুলোর ওপরও নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে চাইছে।।
ইরানের সাথে চুক্তি প্রায় সম্পন্ন, হরমুজ প্রণালী খুলছে: ট্রাম্পের ঘোষণা